বিজিবির অভিযানে এক মাসে ১৩১ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ও অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ১৩১ কোটি ১৯ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাহিনীটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে বিজিবির বিভিন্ন অভিযানে মোট ১৩১ কোটি ১৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে, ১ কেজি ১৬৯.৭২ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ হাজার ৮৭৮টি শাড়ি, ৪ হাজার ৯২০টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ১১ হাজার ৬৪২টি তৈরি পোশাক, ৪ লাখ ১৩ হাজার ৪৮৯টি কসমেটিকস সামগ্রী, ২ হাজার ৪৬৪টি ইমিটেশন গহনা, ১৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫৪৫টি আতশবাজি, ১৩ হাজার ৮৫২ কেজি চা পাতা, ৮ হাজার ৪৭৪ কেজি সুপারি, ১৭ হাজার ৪৭২ কেজি কয়লা, ৫৫ হাজার ২৬০ ঘনফুট বালুসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য।
এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ১৯৫টি মোবাইল ফোন, ৪ হাজার ৯২৮টি মোবাইল ডিসপ্লে, ৫ হাজার ৬৪৩টি চশমা, ২৯ হাজার ৪৭৭ কেজি জিরা, ১৬ হাজার ২৯২ কেজি চিনি, ৩৩ হাজার ৮৭০ কেজি পেঁয়াজ, ১ হাজার ২০৪ কেজি রসুন এবং ৯৪ হাজার ২২৭টি চকলেট।
পাশাপাশি ৬৩৮টি গরু ও মহিষ, ৮টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ৭টি ট্রাক্টর, ৭টি পিকআপ, ২টি প্রাইভেটকার/মাইক্রোবাস, ২৯টি সিএনজি/ইজিবাইক এবং ৩৪টি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবির অভিযানে ১৩টি বিদেশি ও দেশীয় পিস্তল, ১টি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ১৬০ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১৬টি ককটেল, ৮২টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ৩ কেজি গান পাউডারসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শরীফুল ইসলাম আরও জানানো হয়, গত মাসে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭ লাখ ৯ হাজার ৮০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ২ কেজি ২৬৮ গ্রাম হেরোইন, ২ হাজার ১৯৯ বোতল ফেনসিডিল, ১ কেজি ২৪৪ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ৬ হাজার ৪৫৮ বোতল বিদেশি মদ, ১ হাজার ৩৬৮ বোতল ক্যান বিয়ার এবং ৯৩৭ কেজির বেশি গাঁজা।
বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচার ও চোরাচালানের অভিযোগে ১৪১ জন চোরাচালানিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৭৬ জন বাংলাদেশি, ২ জন ভারতীয় এবং ১৩৫ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
বিজিবির এই জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, দেশের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে বিজিবির অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
এসএএ/এসএম