রেশনিং ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিতের আহ্বান ক্যাবের

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোক্তা-স্বার্থ রক্ষার জন্য জ্বালানি তেল বিতরণের রেশনিং ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাসহ ৫ দফা আহ্বান জানিয়েছে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সংবাদমাধ্যমে ক্যাবের তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব আহ্বান জানানো হয়।
ক্যাবের অন্য ৪টি আহ্বান হচ্ছে— জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পেট্রোল পাম্প ও ডিলারদের মধ্যে কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারি রোধে কঠোর নজরদারি জোরদার করা, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিতভাবে জনসাধারণকে অবহিত করা এবং ভোক্তাদের অযৌক্তিক ভোগান্তি ও হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকাসহ সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সাধারণ ভোক্তা, যানবাহন চালক ও পণ্য পরিবহন খাতে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। যেসব জ্বালানি তেলের পাম্প খোলা রয়েছে সেখানে দীর্ঘ লাইনের কারণে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে চালকদের একাধিক পাম্প ঘুরেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভবিষ্যতে তেলের সংকট ও দাম বাড়তে পারে— এমন আশঙ্কা চালকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করতে পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সাধারণত দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চালকদের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক পাম্পে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। এতে স্বল্প সময়ের মধ্যেই অনেক পাম্পের মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে পাম্পগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় ও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।
বর্তমানে সরকার জ্বালানি সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। সেই অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্যও নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক স্থানে এই রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, সীমিত সরবরাহ এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পাম্পে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। ফলে অনেক চালক প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার জানিয়েছে যে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি সংকট, অতিরিক্ত ভিড়, সীমিত সরবরাহ এবং সম্ভাব্য মজুতদারির অভিযোগ ভোক্তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে পরিবহন খাতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
দেশের অর্থনীতি, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ সরাসরি সম্পর্কিত। তাই দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা অত্যন্ত জরুরি।
এমএইচএন/এমএন