বাঁধের উপর সংযোগ সড়ক নির্মাণে বেজা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে চুক্তি

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) মধ্যে মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ (ধলঘাটা)-এর মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। বেজা কার্যালয়ে আজ মঙ্গলবার এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।
মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ (ধলঘাটা) এর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ডেলিগেটেড ওয়ার্কের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বাঁধের উপর ৪.১৫ কি. মি. সংযোগ সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রায় ১১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে উক্ত প্রকল্পের অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক ভবন, সংযোগ সড়ক, পয়ঃনিষ্কাশন (সুয়েরেজ) নেটওয়ার্ক, পানি সরবরাহ, গ্যাস সংযোগ, ইনডোর সাবস্টেশনসহ আনুষাঙ্গিক স্থাপনা, ইটিপি, সীমানা প্রাচীর ইত্যাদি নির্মাণ। এর মধ্যে প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মাধ্যম ডেলিগেটেড ওয়ার্ক হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বিদ্যমান বাঁধের উপর ৪.১৫ কি. মি. সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ (ধলঘাটা) এ ইতোমধ্যে তিনটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৫৭০ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। সেগুলো হলো— এসপিএল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড (এসপিসিএল), সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড (এসসিসিএল) এবং প্যাসিফিক গ্যাস বাংলাদেশ লিমিটেড।
এ ছাড়া ৪৭০ একর জমি গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎসহ সংশ্লিষ্ট পরিষেবা অবকাঠামো নির্মাণ, সবুজায়ন এবং সংরক্ষিত সার্ভিস এরিয়ার জন্য সংস্থান রাখা হয়েছে। জমি বরাদ্দপ্রাপ্ত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে এসপিএল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড কর্তৃক তাদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত জমিতে শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য ভূমি উন্নয়ন ও জেটি নির্মাণসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অবকাঠামো উন্নয়ন হলে শিল্প স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
স্বাক্ষর সভায় অন্যান্যের মধ্যে বেজার নির্বাহী সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও বেজার নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে বেজার নির্বাহী সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মেজর জেনারেল (অবঃ) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ (ধলঘাটা) কে একটি আধুনিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহেশখালীর মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে যে দৃষ্টিনন্দন ‘পাওয়ার হাব’ গড়ে উঠেছে তারই পরিপূরক হিসেবে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে বেজা বিশ্বাস করে।
বেজার পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বেজা নির্বাহী বোর্ডের সচিব ও সরকারের যুগ্ম সচিব ড. জুলিয়া মঈন এবং বাপাউবোর পক্ষে স্বাক্ষর করেন কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম।
এমএমএইচ/এনএফ