সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানায় নিয়োগ দুর্নীতি, মামলার আসামি ৬

জাল কাগজপত্র তৈরি করে অবৈধ নিয়োগ ও পদায়নের মাধ্যমে প্রায় ৩১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে সমাজসেবা অফিসারসহ স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিগগিরই দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করবেন বলে জানা গেছে।
অনুমোদিত মামলার আসামিরা হলেন- সমাজসেবা অফিসার ও স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক বডির সাবেক সদস্য মো. জহির উদ্দিন, বগুড়া সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক বডির সাবেক সদস্য মো. রকনুল হক ও স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী ও বর্তমানে গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান, সাবেক ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মোছা. পারভীন বেগম এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্লামার মো. নয়ন আলী।
অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক বডি প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে জনবল নিয়োগ দিয়েছে। ২০১৯ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আদেশে তিন সদস্যের একটি তত্ত্বাবধায়ক বডি গঠন করা হয়, যাদের দায়িত্ব ছিল গঠনতন্ত্র ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা। কিন্তু তারা ২০২০ সালে এতিমখানার বিভিন্ন শূন্য পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা নিয়োগ কমিটি কেবল মৌখিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কয়েকজন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। পরবর্তীতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ট্রেড ইন্সট্রাক্টর ও প্লাম্বার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ পদ না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেওয়া হয় তাদের। শুধু তাই নয় নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজনকে অন্য পদে পদায়ন করা হয়, যদিও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক পদ থেকে অন্য পদে পদায়নের সুযোগ নেই। অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে মো. আশিকুর রহমান, প্লাম্বার পদে মো. নয়ন আলী এবং সেলাই প্রশিক্ষক পদে মোছা. পারভীন বেগমকে নিয়োগ ও পদায়নের ফলে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের মোট ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৩৬ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দুদক প্রমাণ পেয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরএম/জেডএস