ঈদের আগে জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় ‘যাকাতের কাপড়’ বিক্রিতে ভাটা

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এর মধ্যে ঈদের কেনাকাটায় ধুম পড়েছে সারাদেশে। প্রতিবছর ব্যক্তি ও পারিবারিক কেনাকাটার পাশাপাশি গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য যাকাতের কাপড়ের বাজারেও ভিড় দেখা যায়। এবার সেই চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। ঈদের কেনাকাটায় বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে পা ফেলার জায়গা না থাকলেও যাকাতের কাপড়ের বাজারে বেচাবিক্রি নেই বললেই চলে।
বিজ্ঞাপন
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর ১৫ রমজানের পর যাকাতের কাপড়ের বেচাবিক্রি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। সেই লক্ষ্যে প্রতিবারের মতো এবারও তারা দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য সংগ্রহ করে রেখেছেন। তবে এবার বেচাবিক্রি নেই বললেই চলে। আজ ২২ রমজান চললেও মার্কেটে নেই কোনো বাড়তি ভিড়। দিনে দুই-চারজন যাকাতের ক্রেতা পাওয়াও মার্কেটের দোকানিদের জন্য ভাগ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর অন্যান্য বছরের মতো বড় লটে পণ্য বিক্রি একদমই নেই।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সদরঘাটের শরীফ মার্কেট, পীর ইয়ামেনি মার্কেট ও গুলিস্তান খদ্দর মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা অনেকটা অলস সময় পার করছেন। অধিকাংশ দোকানে ক্রেতা নেই। দুই-একজন ক্রেতা মার্কেটে প্রবেশ করলে প্রায় সব দোকানি তাকে ডেকে নিতে চায়। অল্প সংখক ক্রেতা এলেও তাদের পণ্য কেনার পরিমাণ অন্যান্য বছরের তুলনায় খুবই কম দেখা গেছে। অনেকে আবার দাম বেশির অভিযোগ তুলে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী লিয়াকত মিয়া যাকাতের পণ্য কিনতে সদরঘাটের গুলিস্তান খদ্দর মার্কেটে এসেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর রমজানে এই মার্কেট থেকে যাকাতের কাপড় কিনে তিনি গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ পাঠান। সেখানে শতাধিক মানুষের মধ্যে তিনি যাকাতের কাপড় বিতরণ করেন। এবারও সেই কাপড় কিনতে মার্কেটে এসেছেন। গতবার যে লুঙ্গি ৩০০ টাকায় কিনতে পেরেছেন, এবার তা কিনতে সাড়ে ৩০০ টাকার বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। শাড়ির দামও বেশি চাওয়া হচ্ছে। এতে অনেক দোকান ঘুরেও তিনি দাম সাধ্যের মধ্যে না পাওয়ায় কিনতে পারেননি।
বিজ্ঞাপন
শুধু লিয়াকত মিয়া একা নয়, অনেক ক্রেতাকেই মার্কেটে দাম নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় এ দোকান ওদোকানে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অনেকে১ দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার করছেন।
যাকাতের কাপড় বিক্রি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমার প্রধান তিনটি কারণ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সেগুলো হলো- কিছুদিন আগে জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়া, পণ্যের দাম কিছুটা বৃদ্ধি হওয়া এবং পণ্যের তুলনায় নগদ অর্থের লেনদেন বৃদ্ধি।
গুলিস্তানের পীর ইয়ামেনি মার্কেটের নীল আঁচল শাড়ী হাউজের একজন কর্মী জানান, কিছুদিন আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক নেতারা এবার যাকাতের পণ্য কিনতে ও বিতারণে তেমন অগ্রহ দেখাচ্ছেন না। নির্বাচন ঈদের পরে হলে যাকাতের পণ্যের বিক্রি হয়তো অনেক গুণ বেড়ে যেতো। তাছাড়া অনেক ব্যবসায়ী ও ধনী ব্যক্তি এখন কাপড় না দিয়ে গরিবদের টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। আর পণ্যের দাম মূল্যস্ফীতির কারণে কিছুটা বেড়েছে। সব মিলিয়ে এবার যাকাতের কাপড় বিক্রির পরিমাণ খুবই কম।
বিজ্ঞাপন
এমএমএইচ/এসএম