• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

  1. জাতীয়

মন্ত্রীর স্বস্তির আশ্বাস, বাস্তবে বাস-ট্রেনে চরম ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩
অ+
অ-
মন্ত্রীর স্বস্তির আশ্বাস, বাস্তবে বাস-ট্রেনে চরম ভোগান্তি

ঈদের আগে গতকাল ১৬ মার্চ ছিল সরকারিভাবে শেষ কর্মদিবস। এদিন বিকেলের পর থেকেই ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেন কর্মজীবী মানুষ। তবে সড়ক পথে বাসে বাড়তি ভাড়া এবং ট্রেনের আসনের টিকিট কিনেও ট্রেনে উঠতে না পারার মতো নানা দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। আর সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সকালেই একচেটিয়াভাবে বাস মালিকদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধিদের তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রীদের এই দুর্ভোগের চিত্র জানা যায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ছবি পোস্ট করে নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা।

ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের চন্দ্রা, খাড়াজোড়া ও কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারিও দেখা যায়।

চন্দ্রা বাস স্ট্যান্ডে বেশ কয়েকটি কাউন্টারে টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী দরদাম করে বাসে উঠছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই পরিবহন কর্তৃপক্ষ বাসভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট এবং তুলনামূলক বেশি দামে তেল কিনতে হওয়ায় আগের তুলনায় ভাড়া কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা পোস্টের গাজীপুর প্রতিনিধি আশিকুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাতে রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীতে ঠাসা বাস স্ট্যান্ড এলাকা এবং প্রতিটি কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড়। যাত্রী ছাউনি ছাড়িয়ে চায়ের দোকান, ফুটপাত ও আশপাশের ফাঁকা জায়গায় লাগেজ ও ব্যাগ নিয়ে সিডিউল বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন যাত্রীরা— জানান ঢাকা পোস্টের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জসীম উদ্দীন।

এদিকে সন্ধ্যায় রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকাতেও ঘরমুখো মানুষের ঢল দেখা যায়। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বাস সংকটের সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা এবং অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এয়ারপোর্ট, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং ও আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে শত শত যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে দীর্ঘ যানজটে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

বিজ্ঞাপন

যাত্রীদের অভিযোগ, আন্তঃজেলা ও অন্তঃজেলার অনেক বাস বাড়তি আয়ের আশায় নির্ধারিত রুট ছেড়ে একাধিক ট্রিপ দিচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট রুটে বাসের সংকট দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে— জানান ঢাকা পোস্টের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি আরও জানান, যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন— ঢাকা থেকে রংপুরগামী এই রুটে সাধারণ সময়ে যেখানে বাসভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, সেখানে বর্তমানে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রাকসহ বিভিন্ন বিকল্প পরিবহনে যাতায়াত করছেন। এসব ট্রাকেও জনপ্রতি ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সড়কপথের পাশাপাশি ট্রেন যাত্রাতেও ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। অনেক যাত্রী টিকিট কেটে আসন না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেদি হাসান সজল জানান, দেশের প্রধান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে— রাত ৮টায় লালমনি, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও বুড়িমারীর উদ্দেশে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করা এই ট্রেনে ঠেসে ঠেসে চড়ে গন্তব্যে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ। যাত্রীদের চাপে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হলেও অনেকেই টিকিট নিয়ে নিজ কোচের আসনে গিয়ে বসতে পারেননি। অনেককে কোচের দরজায় ঝুলে ঝুলে যেতে দেখা গেছে।

ফেসবুকের ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে হেল্পলাইন’ গ্রুপে একটি কোচ বোঝাই মানুষের ছবি দিয়ে তানভীর আহমেদ রওনক লিখেছেন, 'এমন অবস্থা হয়েছে—মানুষ তার সিট পর্যন্ত যেতে পারছে না।'

একই গ্রুপে আরএস সাগর আহমেদ জয়দেবপুর জংশন থেকে একটি পোস্ট করে লিখেছেন, 'আংশিক ভিড় নিয়ে খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস জয়দেবপুর জংশন ছেড়ে গেছে।' পোস্টের ছবিতে কোচের ছাদেও যাত্রীদের বসে থাকতে দেখা যায়।

'ময়মনসিংহ ট্রেন কমিউনিটি' গ্রুপে এমডি তুহিন সারোয়ার একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, 'মাননীয় রেলমন্ত্রী, টিকিটধারী ব্যক্তিরাই ট্রেনে উঠতে পারছে না। আপনার রেল প্রশাসনের বেহাল অবস্থা। ট্রেনের ভেতরে বসা তো দূরের কথা, দাঁড়ানোর জায়গাও নেই।'

এমন পরিস্থিতির আগেই সোমবার সকালে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে যান সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিদর্শন শেষে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাস মালিকদের পক্ষে সাফাই গেয়ে সাংবাদিকদের বলেন, তারা তাদের খুশিতেই কম নিচ্ছে। যত কম রাখা যায় নির্ধারিত ভাড়া চেয়ে। যদি ৭০০ টাকা সরকারি ভাড়া হয়, তবে যাত্রী আকৃষ্ট করতে আগে ১০০ টাকা কমিয়ে তারা ৬০০ টাকা নিতেন। এখনও তাই নিচ্ছেন। আবার কেউ ২০ টাকা কমিয়ে ৬৮০ টাকা নিচ্ছেন। অর্থাৎ নির্ধারিত ভাড়া অতিক্রম করেছে— এমন কোনো নজির আমি গত সাত দিনে পাইনি। আমি নিশ্চিত এটা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নয়। হয়তো আগে নেওয়া ভাড়ার চেয়ে ১০০ টাকা বেশি।

রেলপথ ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আজকে সরকারি ছুটি অফিস করেই হবে। সেই কারণে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে চাপ বাড়তে পারে। সেই বাড়তি চাপ কিভাবে মোকাবিলা করা যায়, যাত্রীদের বাড়তি চাহিদা কিভাবে বাস মালিকরা পূরণ করবেন— সে ধরনের প্রস্তুতিও আমরা দেখেছি। এখানে যথেষ্ট সংখ্যক বাস রয়েছে। আমি মনে করছি, এবার আমাদের জনগণ বাস স্টপেজ, ট্রেন স্টেশন বা লঞ্চ স্টেশন থেকে একটি স্বস্তির ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতভাবে পেতে চলেছে।

এর আগে গত ১৩ মার্চ ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে রেলপথমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করছি মানুষের স্বস্তির মাধ্যমে যাত্রাটা নিশ্চিত হবে। ট্রেনে প্রায় ১২৪টি কোচ মিটারগেজে যুক্ত করেছি। আরও প্রায় ১৪টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত করা হয়েছে। আমাদের যে সক্ষমতা আছে, তাতে ৩৬ থেকে ৪২ হাজার মানুষকে এই সেবা দিতে পারব। শেষ মুহূর্তে কিছু চাপ হয়, অনেকে যেকোনো মূল্যে ট্রেনে উঠতে চান—আমরা তা নিবৃত করার চেষ্টা করছি। ওঠার সব ব্যবস্থা বন্ধ করছি।

এমএইচএন/এমটিআই

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

ঈদুল ফিতরঈদযাত্রা

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

সন্ধ্যার পর থেকে বেড়েছে চাপ, গাজীপুর ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ

আনন্দের ঈদ যাত্রাসন্ধ্যার পর থেকে বেড়েছে চাপ, গাজীপুর ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ

তর সইছে না... মেয়ের মুখে শুনবেন বাবা ডাক; মা-স্ত্রীকে দেবেন নতুন কাপড়

ঈদ উপলক্ষে ১০ মাস পর বাড়ি ফিরছেন সবুজতর সইছে না... মেয়ের মুখে শুনবেন বাবা ডাক; মা-স্ত্রীকে দেবেন নতুন কাপড়

আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় চরম দুর্ভোগ

ঈদযাত্রাআব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় চরম দুর্ভোগ

ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, টিকিট কেটে সিট না পাওয়ার অভিযোগ

ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, টিকিট কেটে সিট না পাওয়ার অভিযোগ