বাস আছে, তবু কাউন্টারে মিলছে না টিকিট

যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। চোখের সামনে বাস। তবু নেই টিকিটের দেখা। কাউন্টারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পরও টিকিট না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ময়মনসিংহগামী যাত্রীরা। ঈদযাত্রায় এমন দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে।
বিজ্ঞাপন
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বুধবারও ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ স্বাভাবিক থাকলেও সেখানকার নির্দিষ্ট কিছু কাউন্টারে ভোগান্তির দেখা মিলেছে।
স্বজনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে ময়মনসিংহ যাবেন হৃতিক চক্রবর্তী। বেলা সাড়ে ১১টার পর মহাখালী টার্মিনালে ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্টের টিকিট বিক্রির সারিতে দাঁড়ান তিনি। কিন্তু ঘণ্টা পেরোলেও মেলেনি টিকিট। তার সামনে আরও ২০-২৫ জনও ঘণ্টা-দেড়েক ধরে অপেক্ষা করছিলেন। বাস থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘক্ষণ টিকিট বিক্রি বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ তাদের।

হৃতিকের সঙ্গে কথা হয় দুপুর পৌনে ১টায়। তখনও সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। হৃতিক বলেন, অন্যান্য ঈদে যাত্রীর চাপ যেমন থাকে এবারও তেমন। কিন্তু সমস্যা হলো কাউন্টার থেকে কোনো টিকিট দিচ্ছে না। আমাদের সামনেই বাস ছিল। এরপরও কেন দেওয়া হচ্ছে না জানা নেই।
বিজ্ঞাপন
বাস টার্মিনালে দেখা যায়, ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্টের এসি-নন এসি ময়মনসিংহ বাস কাউন্টারে নারী-পুরুষের আলাদা সারি। দু-দিকেই যাত্রীদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা থেকে ছাড়ার অপেক্ষায় ময়মনসিংহগামী বাসের সারিও দীর্ঘ দেখা গেছে। তবে অন্যান্য রুটে চলাচল করা বাস কাউন্টারে তেমন কোনো ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি।

ইউনাইটেড কাউন্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তরিকুল ইসলাম রাজ। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকাল থেকেই অনবরত ছুটে যাচ্ছে আমাদের বাস। কিন্তু পথে যানজট থাকায় ফিরতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এখন বাসগুলো একটার পর একটা সারিতে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়া আমরা টিকিট দেওয়া বন্ধ রাখিনি। তবে একটা বাসের টিকিট শেষ হলে মাস্টারকে বুঝিয়ে দিতে কিছুটা সময় লাগে। তখন পাঁচ-দশ মিনিটের হেরফের হয়।
টাঙ্গাইল রুটে চলাচল করা নিরালা সুপার কাউন্টারের সামনেও সকাল থেকে ছিল দীর্ঘ সারি। এখানকার বুকিং মাস্টার মাহমুদুল হাসান মাসুদ বলেন, গতকালের মতোই যাত্রীর চাপ রয়েছে। ঈদ উপলক্ষ্যে যাত্রী বেশি থাকায় প্রতি ১০ মিনিট পরপর বাস ছেড়ে যাচ্ছে। ভাড়াও আমরা স্বাভাবিক সময়ের মতোই নিচ্ছি। সবমিলিয়ে যাত্রীর চাপ বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বাস ছাড়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এমআরআর/এমএন