শেষ মুহূর্তের বেচাবিক্রিতে ব্যস্ত শপিংমল, ভিড় বেশি ফুটপাতের দোকানে

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। অনেকেই প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে এরইমধ্যে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে পাড়ি জমিয়েছেন। ঢাকার সড়ক অনেকটা ফাঁকা হয়ে পড়েছে। তবে এখনো শপিংমলগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন ঈদ উপলক্ষ্যে বেচাবিক্রির পসরা সাজিয়ে বসা ব্যবসায়ীরাও। অবশ্য শপিংমলগুলোর তুলনায় শেষ মুহূর্তে ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেচাবিক্রি বেশি হতে দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর নিউ মার্কেট, রাজধানী সুপার মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স এবং গুলিস্তানসহ ঢাকার জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি শপিং মল ও ফুটপাতের বাজার ঘুরে ঈদের কেনাকাটায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অবশ্য শেষ মুহূর্তে শপিংমলগুলোর তুলনায় ফুটপাতের অল্প দামি পোশাকের বেচাবিক্রি বেশি হচ্ছে।
বাড়ি ফেরার তাড়াহুড়ার মধ্যেও কেনাকাটা করতে আসা যাত্রীদের অনেকেই বলছেন, কাজের চাপে সময় না পাওয়ায় এখন কিনতে আসছেন। অনেকে আবার পরিবারের জন্য কেনার সময় হলেও নিজের জন্য কিনতে পারেননি। তাই শেষ সময়ে তাড়াহুড়া করে নিজের জন্য কিছু কেনার চেষ্টা করছেন। তবে ভিড়ের কারণে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ভোগান্তিও কম নয়। দোকানের সামনে দীর্ঘলাইন ঠেলে কেনাকাটা করতে হচ্ছে। ফুটপাতের দোকানগুলোতে তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়া যায় বলে সেখানে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, গত কয়েকদিনের তুলনায় শেষ সময়ে বেচাকেনা বেড়েছে কয়েকগুণ। গুলিস্তান ফুটপাতের পোশাক বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে যা বিক্রি করেছেন, এই দুদিনেই এর সমান বিক্রি হবে বলে আশা তার। তাদের কাছে কিনতে আসা মানুষ বেশিরভাগ বাড়ির পথের যাত্রী। আবার কেউ কেউ পোশাককর্মী। বাকি দিনগুলোতে এবং চাঁদরাতে আরো ভালো বেচাবিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা তার।
বিজ্ঞাপন
গুলিস্তান ফুটপাতের ক্রেতা পোশাক কর্মী রিয়াজুর ইসলাম বলেন, আজ গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। কিছু কেনাকাটা বাকি আছে, সেগুলো যাওয়ার পথে কিনে নিচ্ছি। ছেলে-মেয়ের জন্য কেনাকাটা আগেই করেছি। আজ নিজের জন্য টুকটাক কিছু কিনে নিচ্ছি।
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতেও শেষ মুহূর্তে বেচাবিক্রিতে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। নির্ধারিত দামের পণ্য কেনাকাটায় অনলাইন পেমেন্টে কোনো কোনো ব্র্যান্ডে ৫-১০ শতাংশ ছাড়ও মিলছে। ভালোমানের পোশাক কিনতে পরিবারসহ অনেকেই শেষ মুহূর্তে নামি-দামি ব্র্যান্ডগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন।

ইয়েলো ব্র্যান্ডের শোরুমে ঘুরে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে এ শপের কর্মীরা ক্রেতাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ক্রেতারাও তাদের পছন্দের পণ্য বাছাই করতে শপের এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ক্রেতা মুনিরা শেখ বলেন, গত সপ্তাহে তিনি নিজের জন্য কেনাকাটা সেরেছেন। এখন গ্রামের বাড়িতে শ্বশুর বাড়ির জন্য কেনাকাটা করছেন। তার ননদের জন্য ভালোমানের ড্রেস কিনতে ইয়োলো ব্র্যান্ডের শপে এসেছেন।
বিজ্ঞাপন
শুধু পোশাকের দোকানগুলোতে নয়, শেষ মুহূর্তে জুতার দোকানগুলোতেও বেচাবিক্রির ধুম পড়েছে। শপিংমলগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলোতেও জুতা কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া মানুষ। বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে থেকে জুতা কিনতে এসেছেন সোলাইমান। তিনি জানান, এক বছর পর গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। সবার জন্য কেনাকাটা হয়ে গেছে। নিজের জন্য জুতা কিনতে এখানে এসেছেন। বাজেট অল্প, দরদামে মিললে এখান থেকে পছন্দ অনুযায়ী জুতা কিনবেন তিনি।
বায়তুল মোকাররমের জুতা বিক্রেতা রবিউল হাওলাদার বলেন, কয়দিন ধরে ভালো বেচাবিক্রি হচ্ছে। আজও সকাল থেকে ভালো বিক্রি হয়েছে। আশা করছি ঈদের আগে বাকি দুইদিনও ভালো বিক্রি হবে।
এমএমএইচ/জেডএস