জামাতার লাশ মিলেছে, ২২ ঘণ্টা পরও মেলেনি শ্বশুরের খোঁজ

রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং এক অন্তঃসত্ত্বা নারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সদরঘাটে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় মিরাজ ফকির (৫০) নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মেয়ের জামাতা সোহেল ফকির (২২) নিহত হয়েছেন। এছাড়া মিরাজ ফকিরের মেয়ে রুবা ফকির আহত হয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হতে চললেও মিরাজ ফকিরের কোনো সন্ধান পাননি উদ্ধারকারীরা। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ আপাতত স্থগিত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, এই ঘটনায় একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া একজন নিহত হয়েছেন এবং একজন আহত অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে নৌ-পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় দুই লঞ্চের বেশ কয়েকজন স্টাফ আটক আছেন। বর্তমানে বিষয়টি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় তদারকি করছে। আটকের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
উদ্ধার কার্যক্রমের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস সদরঘাট স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনায় মিরাজ নামের একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে আমরা আজ সকাল ৬টা থেকে কাজ শুরু করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পানির প্রবাহ অপ্রত্যাশিতভাবে প্রবল ছিল এবং লঞ্চগুলোও ঠাসাঠাসি করে থাকায় সরানো যাচ্ছিল না। পাশাপাশি যাত্রীদের চাপও উদ্ধার কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিল। ডুবুরিরা পানির নিচে যাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রবল স্রোতে বারবার লঞ্চের নিচে চলে যাচ্ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, সকাল ৮টার পর পন্টুন এলাকা কিছুটা ফাঁকা হওয়ায় ডুবুরিরা পুনরায় চেষ্টা চালান। তবে লঞ্চগুলো সরানোর সময় যাত্রীদের চাপ এবং জোয়ার-ভাটার পরিবর্তনের কারণে ডুবুরিরা নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারছিলেন না। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমাদের সিনিয়র অফিসারদের পরামর্শে অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। লঞ্চের চাপ কমলে পুনরায় ডুবুরির মাধ্যমে উদ্ধারকাজ শুরু করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের টহল অব্যাহত থাকবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সদরঘাটে ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে ট্রলার দিয়ে যাত্রী তোলার সময় পেছন থেকে ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ (ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট) নামে আরেকটি লঞ্চ ধাক্কা দেয়। এতে ধাক্কা দেওয়া লঞ্চের সামনের অংশের আঘাতে অপেক্ষমাণ লঞ্চে থাকা কয়েকজন যাত্রী পিষ্ট হন। এদের মধ্যে রুবা আক্তার (২০) নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়ে নদীতে পড়ে যান।
পুলিশ জানায়, বরিশালের কাশিপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠতে গিয়ে পাশাপাশি থাকা দুটি লঞ্চের ঘষাঘষির মধ্যেই তিনি পানিতে পড়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এমএসি/এমএসএ