ফোনেই জানান ঈদের শুভেচ্ছা, এটিএম বুথেই কাটে নিরাপত্তাকর্মীদের ঈদ

ঈদের সকালে যখন শহরের বেশির ভাগ মানুষ নতুন পোশাক পরে নামাজ শেষে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও নির্জন মোড়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীদের। উৎসবের দিনে পরিবারের সান্নিধ্য থেকে দূরে থেকে অন্যের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রতিদিনের মতো এদিনও প্রধান দায়িত্ব।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ঈদের দিনেও ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে বসে বা দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। সাধারণ দিনে যেখানে মানুষের কোলাহলে মুখর থাকে, সেখানে ঈদের দিনে চারপাশ থাকে অনেকটাই ফাঁকা। তবে এই নির্জনতায়ও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হয় তাদের।

পূর্ব রামপুরা এলাকার ইউসিবি ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী আবদুল করিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, “ঈদ মানেই পরিবারের সঙ্গে থাকা, কিন্তু আমাদের জন্য তা সম্ভব হয় না। গ্রামে স্ত্রী-সন্তান আছে, সকালে মোবাইল ফোনে কথা বলেছি। ছেলেটা বলছিল, ‘বাবা, তুমি কবে আসবা?’– এই কথাটা শুনলে খুব খারাপ লাগে।”
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান কারওয়ান বাজার এলাকার আরেক এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী নুর ইসলাম। তিনি বলেন, “ছুটি পাইনি, তাই ঈদের দিনও ডিউটিতে আছি। সহকর্মীদের সঙ্গে সামান্য সেমাই খেয়েই ঈদ কাটাতে হচ্ছে। তবে দায়িত্ব তো পালন করতেই হবে।”
বিজ্ঞাপন
মিরপুরের সাগুফতা এলাকায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের (ডিবিবিএল) এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী নূরুল শেখের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানায়। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, “৪ বছর ধরে ঈদে বাড়ি যেতে পারি না। বাড়িতে মা একা আছেন। এখানে বউ ও মেয়ে থাকে। মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে মন চায়, কিন্তু পারি না। সকালে কথা হয়েছে মোবাইলে। কষ্ট হলেও জীবিকার জন্য থাকতে হয়”–বলতে বলতে মুখটা ভার হয়ে আসে তার।
পাশে ইবিএলের নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ মুরাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, “৮টি ঈদ ঢাকায় করেছি। গাইবান্ধা সদরে আমার বাড়ি। সেখানে মা, বউ আর মেয়ে থাকে। ওদের জন্য মন খারাপ হয়। কিন্তু কিছু করার থাকে না। আশপাশের বুথের অন্যান্য কর্মীর সঙ্গে আলাপ করেই দিন পার করি।”
এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, ঈদের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকলেও ঝুঁকি কমে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে বাড়ে। তাই আরও বেশি সতর্ক থাকতে হয়। ব্যাংকের বুথে থাকা অর্থ ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি রাখতে হয়।
বিজ্ঞাপন
তারা আরও জানান, বছরের অন্য সময় ছুটি মিললেও ঈদের মতো বড় উৎসবে ছুটি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, এই সময়েই নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। ফলে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ তাদের কমই মেলে। তবুও দায়িত্বে কোনো অবহেলা নেই তাদের। নির্জন রাস্তায় বসে থাকা, মাঝেমধ্যে টহল দেওয়া কিংবা সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়াসহ সবকিছুই চলে নিয়মমাফিক।
এমএইচএন/বিআরইউ