ঈদের দ্বিতীয় দিনে উপচে পড়া ভিড়, প্রাণের স্পন্দনে মুখর রমনা পার্ক

ঈদের ছুটিতে ঢাকার ব্যস্ততা অনেকটাই কম। বছরের অন্য সময় যেখানে যানজটে নাকাল হতে হয় নগরবাসীকে, সেখানে ঈদের এ কয়েকদিন শহর যেন নেয় স্বস্তির নিশ্বাস। আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। বিশেষ করে ‘ঢাকার ফুসফুস’ খ্যাত রমনা পার্কে বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২২ মার্চ) রাজধানীর রমনা পার্কে যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততা ভুলে একটু নির্মল বাতাস আর সবুজের ছোঁয়া পেতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ভিড় করছেন হাজারো মানুষ। ঈদের এই সময়টুকু রাজধানীবাসীর কাছে হয়ে উঠেছে আনন্দ আর বিনোদনের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
সকাল থেকেই পার্কে দর্শনার্থীদের আসা শুরু হলেও বিকেলের দিকে ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পার্কের লেকের পাড়, নতুন তৈরি করা কাঠের ডেক এবং ওয়াকওয়েগুলোতে মানুষের তিল ধারণের জায়গা ছিল না। শিশুদের জন্য নির্ধারিত খেলার জোনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অনেককে দেখা গেছে ঘাসের ওপর চাদর বিছিয়ে সপরিবারে খাবার খেতে ও আড্ডা দিতে।

ব্যস্ত এই যান্ত্রিক শহরে এমন নির্ভার সময় খুব একটা পাওয়া যায় না। আর তাই ঈদের এই ছুটিতে নিজেদের মতো করে আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন রাজধানীবাসী। কেউ খুঁজছেন একটু স্বস্তির সময়, কেউ বা প্রিয়জনদের সঙ্গে ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত।
বিজ্ঞাপন
যাত্রাবাড়ী থেকে সপরিবারে আসা বেসরকারি ফার্মাসিউটিক্যালসের কর্মকর্তা লিটন মাহমুদ বলেন, সাধারণ সময়ে অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায় পরিবার নিয়ে বের হওয়া হয় না। এছাড়া যানজটের কারণে বের হওয়া কঠিন। আজ রাস্তা খালি থাকায় দ্রুত চলে এসেছি। অনেক মানুষ ঘুরতে আসছে। পরিবারের সবাই মিলে রমনার সবুজে সময় কাটাতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
পার্কে পেয়ারা বিক্রি করেন পলাশ। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে অনেক মানুষ ঘুরতে আসছে। ছোট বাচ্চা নিয়ে অনেকেই ঘুরতে আসছে আজকে। লোকসমাগম বেশি থাকায় অন্যান্য দিনের তুলনায় বিক্রি বেশি হচ্ছে জানায় এই পেয়ারা বিক্রেতা।

মগবাজার থেকে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে আসা কাপড় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, ভিড় থাকলেও রমনা পার্ক সবসময়ই শান্ত ও আরামদায়ক মনে হয়। অন্যান্য জায়গার মতো টিকিট কাটার সিরিয়াল নেই, বাসা থেকেও কাছে। পার্কের লেকের পাড়টা আমাদের খুব প্রিয়। সময় পেলেই আমরা এখানে ঘুরতে আসি।
বিজ্ঞাপন
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা বন্ধুরা মিলে রমনা পার্কে আড্ডা দিচ্ছি। সবাই একসঙ্গে বসে গান, গল্প করে দারুণ সময় কাটানো যায়। ছবি তোলার জন্যও দারুণ জায়গা।
আজ আবহাওয়াও যেন ঈদের আনন্দের পক্ষে ছিল। তাইতো সারাদিন স্বস্তি নিয়েই সবাইকে ঘুরতে দেখা গিয়েছে স্বচ্ছন্দে। বাবা-মার সঙ্গে শিশুদের দৌড়ঝাঁপ আর বড়দের নির্ভার ঘোরাঘুরি, সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন, আনন্দময় চিত্রের দেখা মিলে এই পার্কে।

এদিকে, ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পার্কে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের কিছু ছোটখাটো ভোগান্তির অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে টয়লেট বা ওয়াশরুম ব্যবহারের ক্ষেত্রে লম্বা লাইনের কারণে নারী ও শিশুদের কিছুটা বিপাকে পড়তে হয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে পার্কের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার ও পুলিশ সদস্যদের বেশ হিমশিম খেতে দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটিতে রমনা পার্ক যেন হয়ে উঠেছে ঢাকাবাসীর এক মিলনমেলা। সন্ধ্যার পরও অনেককে পার্কের লেকের পাড়ে বসে রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা গেছে।
এনআর/এমএন