সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত স’মিল চালানো নিষিদ্ধ হচ্ছে

করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালার খসড়া তৈরি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। বিধিমালা অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত করাতকল (স’মিল) চালানো যাবে না।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় করাতকল স্থাপন, পরিচালনা, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খসড়াটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের জন্য পাঠিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। ২২ মার্চের মধ্যে এ বিষয়ে মতামত দিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত করাতকল চালানো নিষিদ্ধ
লাইসেন্স ছাড়া করাতকল পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ
লাইসেন্সের মেয়াদ ২ বছর, সময়মতো নবায়ন বাধ্যতামূলক
বসতি, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে করাতকল স্থাপন নিষেধ
নিয়ম ভাঙলে ২ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা
প্রস্তাবিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া কোনো করাতকল পরিচালনা করা যাবে না। একইসঙ্গে সূর্যাস্তের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত করাত পরিচালনা করা যাবে না। এছাড়া করাতকলের চারপাশে ঘেরাও বা বেড়া থাকতে হবে এবং নির্ধারিত সীমানার বাইরে কাঠ বা কাঠজাত উপকরণ রাখা যাবে না।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, করাতকল পরিচালনায় দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার বাধ্যতামূলক। প্রতিটি করাতকলে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) স্থাপন করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি করাতকল থেকে উৎপন্ন কাঠের গুঁড়া, গাছের বাকল বা অন্যান্য বর্জ্য কোনো খাল, নদী বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না।
করাতকল স্থাপনের ক্ষেত্রেও একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো সংরক্ষিত বা সরকারি বনভূমির ৫ কিলোমিটার এবং আন্তর্জাতিক সীমানার ৩ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন করা যাবে না।
তবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা সদরের নির্দিষ্ট এলাকার ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের ২০০ মিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
লাইসেন্সের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই বছর। নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ দিন আগে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে নবায়ন না করলে লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।
বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ বা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট করাতকলের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা যাবে।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় করাতকলের কাঠ ও অন্যান্য বনজ দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয় এবং চিরাইয়ের হিসাব সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ হিসাব মাসিক ভিত্তিতে নিকটস্থ বন বিভাগীয় দপ্তরে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বন কর্মকর্তা বা পুলিশ কর্মকর্তা যেকোনো সময় পূর্ব নোটিশ ছাড়াই করাতকল পরিদর্শন করতে পারবেন বলে বলা হয়েছে।
নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে ২০১২ সালের করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা বাতিল হবে। তবে আগের বিধিমালার অধীনে দেওয়া লাইসেন্স মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
এসএইচআর/এমএন