অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সড়কে মৃত্যুর মিছিল : নিসচা

পবিত্র ঈদকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে বাগেরহাট ও কুমিল্লার পদুয়ারবাজারসহ কয়েকটি অঞ্চলে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা বেড়েছে। এসব ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) গণমাধ্যমে নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদের পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিসচার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে অতিরিক্ত গতি, আইন অমান্য এবং চালকদের অসতর্কতা। প্রতি বছরের মতো এবারের ঈদেও একই চিত্র দেখা গেছে— অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সড়ক যেন মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, কিছু স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম প্রশংসনীয় হলেও অনেক জায়গায় আইন প্রয়োগে ধীরগতি ও শৈথিল্য ছিল স্পষ্ট। ফলে অনিয়ন্ত্রিত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং নিয়ম না মানার প্রবণতা বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে নিসচার বিভিন্ন শাখার স্বেচ্ছাসেবকরা দেশের নানা স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন। যেখানে এ সমন্বিত উদ্যোগ কার্যকর হয়েছে, সেখানে সড়কের বিশৃঙ্খলা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে সারাদেশে সব জায়গায় নিসচার টিম কাজ করতে পারে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরই বর্তায়।
এদিকে, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।
সবকিছু মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা অনেক ক্ষেত্রে ভোগান্তিময় হয়ে উঠেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। একটি উৎসবমুখর সময়কে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে হলে এখনই প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা।
বিজ্ঞাপন
নিসচা বলেছে, সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়। ঈদযাত্রাকে একটি বিশেষ পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো আগাম পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সরকার ও প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এমএইচএন/এসএইচএ