বিজ্ঞাপন

৭২ হাজার লিটার বিমানের তেল চুরি, তদন্ত শেষ হয়নি ১৮ দিনেও

অ+
অ-
৭২ হাজার লিটার বিমানের তেল চুরি, তদন্ত শেষ হয়নি ১৮ দিনেও

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপোতে যাওয়ার পথে গায়েব হয়ে গেছে ৭২ হাজার লিটার উড়োজাহাজের জ্বালানি (জেট ফুয়েল)। চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের ১৮ দিন পার হলেও এখনো প্রতিবেদন জমা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ উঠেছে, পদ্মা অয়েল কোম্পানির একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ‘সবুজ সংকেত’ না মেলায় থমকে আছে তদন্ত কার্যক্রম। এমনকি চুরিতে মূল অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তদন্ত দলের একাধিক বৈঠকের খবরও পাওয়া গেছে।

গত ১১ মার্চ তেল চুরির এই ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ মার্চ পদ্মা অয়েলের উপমহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. শফিউল আজমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দুই-এক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত চলাকালে এই চুরির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তদন্ত শেষেও তার সঙ্গে তদন্ত দলের সদস্যদের বেশ কয়েকবার বৈঠক করতে দেখা গেছে। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১১ মার্চ যে চারটি ট্যাংলরিতে করে কুর্মিটোলা ডিপোতে তেল নেওয়ার কথা ছিল, সিসিটিভি ফুটেজে সেগুলোকে সেখানে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। পরবর্তী সময়ে তদন্ত দল ১৪ ও ১৫ মার্চ সরেজমিন কুর্মিটোলা ডিপোর সিসিটিভি ফুটেজ এবং তেলের মজুদ পরীক্ষা করে চুরির প্রাথমিক প্রমাণ পায়। ডিপোতে মজুত তেলের পরিমাণেও বড় ধরনের ঘাটতি শনাক্ত করেন কর্মকর্তারা।

তেল চুরির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হককে কুর্মিটোলা ডিপো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ১৫ মার্চ পদ্মা অয়েলের মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মীর মো. ফখর উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘থার্ড টার্মিনাল প্রজেক্টে’র ইনচার্জ হিসেবে পদায়ন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে তার বদলি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে দৌলতপুর ডিপোর ইনচার্জ মো. রিদওয়ানুর রহমানকে।

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, “তদন্ত দল সরেজমিন পরিদর্শন করে সবকিছু যাচাই করছে। জ্বালানির চাহিদা মেটাতে আমাদের ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে, তাই প্রতিবেদন দিতে কিছুটা সময় লাগছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সচিব শাহিনা সুলতানা জানান, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত দল সময় চেয়েছে এবং তাদের সেই সময় দেওয়া হয়েছে।

মো. সাইদুল হকের বিরুদ্ধে তেল চুরির অভিযোগ নতুন নয়। গত বছরের ২০ জানুয়ারি তাকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক চুরির অভিযোগে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিপিসি। এ ছাড়া সনদ জালিয়াতি ও আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাইদুল হক পদ্মা অয়েলের সাবেক শ্রমিক নেতা মো. আমিনুল হকের ছোট ভাই। ঢাকার বনানীতে তার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও দামি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। ২০১৯ সালে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার সময় বেতন সনদ জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এত সব অভিযোগ সত্ত্বেও তাকে বারবার গুরুত্বপূর্ণ ডিপোর দায়িত্ব দেওয়ায় সিন্ডিকেটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এমআর/বিআরইউ