রাজধানীর ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উচ্ছেদ অভিযানে উধাও হয়েছে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা। তবে এই অভিযানের মুখে পড়ে মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁইটুকুও হারিয়েছেন ৮০ বছর ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ নাঈমুদ্দিন।
বিজ্ঞাপন
অনেক বছর ধরে মগবাজার এলাকার ফুটপাতে একটি খুপরি ঘরে বাস করতেন তিনি; পুলিশের অভিযানে ভেঙে দেওয়া হয়েছে সেটিও।
বুধবার (১ এপ্রিল) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ মগবাজার ক্রসিং থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত সড়কে অবৈধ দখল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্ধিতাংশ অপসারণে এই অভিযান পরিচালনা করে। সেখানেই নিজের সম্বলটুকু হারান এই বৃদ্ধ।
অশ্রুসিক্ত চোখে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে নাঈমুদ্দিন বলেন, ‘দুইটা মেয়ে আছে, বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। ছেলেও একটা আছে, তাকেও বিয়ে দিয়েছি। সাভারে থাকে বউ নিয়ে। মাঝে মাঝে আমাকে দেখতে আসে। কিন্তু বউ (ছেলের বউ) আমাকে বাসায় যেতে দেয় না। ছেলে কয়েক দিন আগে ঈদের সময় লুঙ্গি-জামা কিনে দিয়ে গেছে। আমি এখানে অনেক বছর ধরে থাকি। রিকশা-সাইকেলে হাওয়া দিলে মানুষ পাঁচ-দশ টাকা দেয়। তা দিয়ে খাই আর রাতে এখানে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকি। সেটিও ভেঙে দিল পুলিশ। এখন বৃষ্টি হলে রাতে ভিজতে হবে। ঘুমানোর জন্য নতুন জায়গা খুঁজতে হবে।’
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, উচ্ছেদ অভিযান শেষে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে জনকণ্ঠ ভবনের উল্টো পাশে নিজের ভাঙা ঘরের সামনে হতাশ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নাঈমুদ্দিন। একটু আগেই তার খুপরি ঘরটি ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। এখন তিনি ঘরের ছাদ তৈরিতে ব্যবহৃত কাঠের টুকরোগুলো আবারও একত্রিত করার চেষ্টা করছেন। তবে ঘরের ছাদে ব্যবহৃত পলি কাগজটি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, যা দিয়ে আর বৃষ্টির পানি ঠেকানো সম্ভব নয়।
নাঈমুদ্দিন জানান, গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুরে তার গ্রামের বাড়ি। অনেক আগেই গ্রামের সব সম্পত্তি বিক্রি করে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। একসময় বাসে হেল্পারি করতেন। এখন বয়সের ভারে ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না বলে রিকশা-সাইকেলে হাওয়া দিয়েই দিন পার করেন।
এদিকে ফুটপাত থেকে দোকানপাট সরাতে আজ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্রাফিক আটটি বিভাগের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান গুলশান বিভাগে গিয়ে শেষ হবে। পাঁচ দিনব্যাপী এই অভিযান ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আজকের অভিযানে মগবাজার ক্রসিং থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া কয়েকটি দোকানকে সময় বেঁধে দিয়ে দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ৪৯টি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের বিরুদ্ধে ভিডিও মামলা দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ডিএমপির রমনা জোনের এসি (ট্রাফিক) রোমানা উপস্থিত ছিলেন।
এমএমএইচ/বিআরইউ
