মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে। গত ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে মজুত করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ডিজেল উদ্ধার হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৪ লিটার, অকটেন ৩০ হাজার ৯৬০ লিটার এবং পেট্রোল ৭ হাজার ৫৪ লিটার।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সার্বিক জ্বালানির পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশে মোট ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ২ হাজার ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ১ কোটি ১ লাখ ৪৩৫ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া শুধু গতকাল (১ এপ্রিল) পরিচালিত ৩৮১টি অভিযানে ১৬৯টি মামলা করা হয় এবং ৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এদিন একজনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। একই দিনে উদ্ধার করা হয়েছে ২৪ হাজার ৪৮২ লিটার ডিজেল, ১০ লিটার অকটেন এবং ৩৯৫ লিটার পেট্রোল—মোট ২৫ হাজার ৫৩৭ লিটার জ্বালানি।
দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন এবং পেট্রোল-অকটেন মিলিয়ে দৈনিক চাহিদা প্রায় ১,২০০ টন। আমরা আসলে মান্থলি প্ল্যান বছরের প্ল্যানটা করতাম এবং মান্থলি এগুলো আনার কাজ করতাম। তো এখনো আমরা তাই করছি এবং কোনো সংকট ডিজেলের ক্ষেত্রেও নেই। এপ্রিল মাসটা আমরা পুরোপুরি নিরাপদ আছি। আমি আজকে সকালেও মিটিং করেছি। মিটিং করে আমরা দেখেছি যে আমাদের যে বর্তমান মজুত এবং আমাদের যেসব শিপ ইনকামিং আছে প্রত্যেকটাই অন টাইম। ফলে কোনো অসুবিধা হবে না ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিছু সরবরাহ চুক্তিতে জটিলতা তৈরি হলেও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগত জাহাজগুলো সময়মতো পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
পাম্পগুলো কেন তেল পাচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পাম্পগুলোতে গত বছর যা সরবরাহ করছি এ বছরও তাই সরবরাহ করছি। এখন পেট্রোল পাম্প মাঝে মাঝে বন্ধ থাকছে এটা আমিও দেখছি। কিন্তু এটা আসলে আপনারা জানেন যে মানুষের মধ্যে প্যানিক বায়িংটা এখনো বন্ধ হয়নি। যে কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোর সাপ্লাই চেইনটাতেই ইন্টারাপশন হচ্ছে মাঝে মাঝে।
ছয়টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের কি অবস্থা, এর পাশাপাশি ছয় থেকে সাত দিনের একটা মজুত আছে এই অবস্থায় এলে কীভাবে মোকাবিলা করবেন, আর তিন নাম্বার হচ্ছে বিএসসির একটা জাহাজ আছে বাংলার জয়যাত্রা সেটা আসলে কি অবস্থায় আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্মসচিব বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে যে ছয়টা জাহাজের কথা আপনি বলছেন, এটা সম্ভবত ইরানের রাষ্ট্রদূতের রেফারেন্স দিয়ে বলছেন আপনি। আমরা অফিসিয়াল চিঠি এখনো পাইনি। অফিসিয়াল চিঠি পেলে এ বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব। তবে আমিও জেনেছি আপনার মতো। এর মধ্যে পাঁচটা হচ্ছে এলএনজি আর একটা হচ্ছে ক্রুড যেটা আপনি নর্ডিক বললেন। তো দুটোর ব্যাপারে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আপনারা জানেন যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেকগুলো আমাদের যে জি টু জি চুক্তি ছিল সেগুলো ফোর্স মেজর হয়েছিল আগে কিন্তু যেগুলো আমরা চেষ্টা করছি যে সেই ইরানের যেহেতু একটা সবুজ সংকেত আছে, এটা যদি আমরা অফিসিয়ালি পেয়ে যাই তাহলে আমরা সেই উৎস থেকে আনতে সমর্থ হবো।
এমএম/জেডএস
