বিজ্ঞাপন

পাম্পে মিলছে সীমিত তেল, রোদে পুড়ছেন অপেক্ষমাণ গ্রাহকেরা

অ+
অ-
পাম্পে মিলছে সীমিত তেল, রোদে পুড়ছেন অপেক্ষমাণ গ্রাহকেরা

বেলা গড়িয়ে দুপুর। বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা বাইকারদের লাইন ছাড়িয়েছে অ্যারোস্পেস অ্যান্ড এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়। তপ্ত রোদে ঘেমে-নেয়ে উঠছেন সবাই। রোদ থেকে বাঁচতে কেউ গাছের নিচে দাঁড়াচ্ছেন, কেউবা অপেক্ষার 'অভিজ্ঞতা' থেকে সঙ্গে ছাতা নিয়ে এসেছেন। কতক্ষণ অপেক্ষার পর তেল মিলবে, তার অবশ্য নিশ্চয়তা নেই।

বিজ্ঞাপন

তবে এতো কষ্ট ও অপেক্ষা শেষে ফিলিং স্টেশনে থেকে তেল মিলছে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকার, অর্থাৎ ৫ লিটার (অকটেন)। সরকার গত ১৪ মার্চ জ্বালানি তেল ক্রয়ে সব ধরনের রেশনিং তুলে দেয়। কিন্তু তাতে করে আগের-পরের পরিস্থিতির খুব একটা তফাৎ আসেনি। অনেক পাম্পে আজও তেল নেই, হাতেগোনা দু-একটি পাম্প গ্রাহকের চাহিদামাফিক তেল দিচ্ছে, আর যেসব পাম্পে তেল রয়েছে, তারা নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি দিচ্ছে না।

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে কথা হয় অপেক্ষারত বাইকার ইরফান মাহমুদের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানে আসার আগে দুইটা পাম্পে ঘুরেছি, সেখানে তেল নেই। পরে এই পাম্পে এসেছি। লাইন এতো বিশাল যে, কখন তেল নিতে পারবো জানি না।

dhakapost

ফিলিং স্টেশনের কর্মী জানান, বাইকে ৬০০ টাকা, প্রাইভেটকারে ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। তেলের সাপ্লাই থাকলেও চাপ এতটা বেশি যে, সবাইকে যেন তেল দেওয়া সম্ভব হয়, তাই পরিমাণ হিসেব করে দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

একই চিত্র দেখা যায় মহাখালীর ক্লিন ফুয়েল স্টেশনেও। ট্রাস্টে ৬০০ টাকার তেল মিললেও এখানে ৫০০ টাকার বেশি তেল মিলছে না। এই পাম্পেও অপেক্ষারত বাইকারদের লাইন ছাড়িয়ে গেছে মহাখালী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত।

এক ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে তেল নিয়ে স্টেশন থেকে বের হচ্ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ৫০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। কিন্তু এই তেলে আমার হবে না। অন্য কোনো স্টেশন থেকে আবার তেল নিতে হবে। এই গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নেওয়াটা খুবই কষ্টের।

dhakapost

এসব স্টেশনে অপেক্ষা করে তেল মিললেও যেসব স্টেশনে তেলই নেই, সেখানেও ঠায় বসে আছেন গ্রাহকরা। তেজগাঁওয়ের আইডিয়াল ফিলিং স্টেশনের ঢোকার মুখেই চোখে পড়ে বোর্ডে লিখে রাখা একটা নোটিশ 'অকটেন নেই, ডিপো থেকে আসলে দেয়া হবে'। তবে ডিপো থেকে ঠিক কখন আসবে, তার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না কর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

আইডিয়াল ফিলিং স্টেশন সাধারণত চাহিদামাফিক তেল দিয়ে থাকে। তাই ভোগান্তি দ্বিগুন না করতে গ্রাহকরাও তেলহীন স্টেশনে লাইন ধরে বসে আছেন।

জ্বালানি তেলের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে কথা বলা হয় বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, একেকটা পাম্প তেল পাচ্ছে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার, অথচ গ্রাহকের চাহিদা তার চাইতে অনেক বেশি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তেলের কাছে পৌঁছানোর পর সে যদি তেল না পায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই রাগান্বিত হবে। কিন্তু এখানে তো পাম্প মালিকদের কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, ডিপো থেকে চাহিদামাফিক তেল পেলে এই চাপটা অনেকাংশেই কমানো যেত। কিন্তু সেটা তো পাম্প পাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই পাম্প নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল দিচ্ছে। গ্রাহকদের ভোগান্তিতে ফেলার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই, আমরা বরং চাই এই পরিস্থিতি দ্রুত ঠিক হোক।

জানতে চাইলে বিপিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগাম পরিস্থিতি বিবেচনা করে পাম্পে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সবাই হয়তো চাহিদামাফিক তেল পাচ্ছে না। কিন্তু গ্রাহকদের প্যানিক বায়িংও সংকটটা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। প্রয়োজনের বেশি তেল না নেওয়ার বিষয়ে তাদের সচেতন হওয়া জরুরি।

ওএফও/জেডএস