বিজ্ঞাপন

দোকানের বাইরে ফ্রিজের অংশ ‘এক ফুট’, জরিমানা ২০ হাজার

অ+
অ-
দোকানের বাইরে ফ্রিজের অংশ ‘এক ফুট’, জরিমানা ২০ হাজার

রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শেষ দিনের অভিযানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৫ এপ্রিল) নিউমার্কেট এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে একটি ফাস্টফুডের দোকানের ফ্রিজ ফুটপাতে মাত্র এক ফুট বর্ধিত অবস্থায় পাওয়ায় মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে নিউমার্কেটের কিচেন মার্কেটের নিচে অবস্থিত ‘প্রত্যাশী হট ব্রেড’ দোকানের মালিক মো. ইউসুফকে এই জরিমানা করেন ডিএমপির স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় দোকানের ফ্রিজের অংশটি সীমানার বাইরে পাওয়ায় এই দণ্ড দেওয়া হয়।

জরিমানার শিকার মো. ইউসুফ বলেন, ‘এভাবে রাস্তার বাইরে লাখো দোকান আছে। প্রত্যেককে যদি ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়, তবে সরকারের কোষাগারে কয়েক হাজার কোটি টাকা জমা হবে। আমার পজিশনের জায়গায় মাত্র এক ফুট ফ্রিজের অংশ বাইরে ছিল, তাতেই এই জরিমানা করা হলো।’ তিনি অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরও বলেন, ‘এখন অভিযান চালিয়ে গেল, বিকেলে দেখবেন সবাই আবার দোকান বাইরে বসিয়ে ফেলেছে। এই অভিযানে কী লাভ হবে?’

বিজ্ঞাপন

অভিযানে কেবল মো. ইউসুফই নন, সকাল থেকে একই ধরনের অপরাধে আরও অনেক দোকানদারকে জরিমানা করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় সায়েন্স ল্যাব থেকে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত সড়ক দিয়ে এই অভিযান শুরু হয়। এরপর নীলক্ষেত থেকে ঢাকা কলেজ অভিমুখী সড়কে অভিযান চালিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট নিউমার্কেট এলাকায় পৌঁছান।

এসময় ফুটপাতে থাকা হকারদের চৌকি, চেয়ার, টুল ও মাথার ওপর টানানো শামিয়ানা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে অনেকে আগেভাগেই মালামাল সরিয়ে নিলেও ঘটনাস্থলে যাদের মালামাল পাওয়া গেছে, সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার খাবার হোটেল, যানবাহন মেরামতের ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং কারখানা, পোশাক ও আসবাবপত্রের দোকানগুলো প্রায়ই ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে। উদাহরণস্বরূপ, রেস্তোরাঁর রান্নার চুলা, গ্রিল বা কাবাব তৈরির মেশিন, টায়ার ও আসবাবপত্র ফুটপাতে রাখা হয়। এমনকি ওয়ার্কশপগুলো রাস্তার এক লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করে থাকে।

বিজ্ঞাপন

এসব কারণে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। বাধ্য হয়ে পথচারীরা মূল সড়কে চলাচল করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আইন অমান্যকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত ১ এপ্রিল থেকে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় আজ শেষ দিনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এমএইচএন/বিআরইউ