লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহর আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), লিবিয়ার চিফ অব মিশন নিকোলেটা জিওর্দানোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করেছে।
বিজ্ঞাপন
ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, দূতাবাস পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন, সুরক্ষা ও কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত আইওএম-এর চিফ অব মিশনকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং লিবিয়া থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনে তাদের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি উল্লেখ করেন, আইওএম-এর সহায়তায় লিবিয়ায় বিপদগ্রস্ত অভিবাসীরা দেশে ফিরে পরিবার ও সমাজের সঙ্গে পুনরায় একীভূত হতে পারছেন এবং নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার সুযোগ পাচ্ছেন।
এ প্রেক্ষিতে বিপদগ্রস্ত অভিবাসীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আইওএম-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ত্রিপোলি ও বেনগাজিসহ লিবিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে ইতোমধ্যে নিবন্ধিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।
এ ছাড়া রাষ্ট্রদূত ঝুঁকিপূর্ণ ও অসুস্থ অভিবাসীদের চিকিৎসা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে আইওএম-এর অধিকতর সহযোগিতা কামনা করেন।
বিজ্ঞাপন
চিফ অব মিশন বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে আইওএম-এর ঘনিষ্ঠ ও ফলপ্রসূ সহযোগিতার বিষয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্রুত, কার্যকর এবং মানবিক পদক্ষেপ লিবিয়ায় বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি অভিবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি জানান, স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবর্তনে ইচ্ছুক অভিবাসীদের দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসন করতে আইওএম সকল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচারণামূলক কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় উদ্ভূত চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করার বিষয়ে একমত হন। পাশাপাশি বাংলাদেশ স্কুলসহ প্রবাসী কমিউনিটির কল্যাণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
পরিদর্শনকালে চিফ অব মিশন অভিবাসীদের নিবন্ধন কার্যক্রম এবং দূতাবাসের কনস্যুলার সেবা কেন্দ্র সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যক্রমকে ‘অনুকরণীয়’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এনআই/এমএসএ
