বিজ্ঞাপন

নেক্সাস পে’র কর্মকর্তা পরিচয়ে কল, গ্রাহকের ব্যাংক থেকে উধাও ১৩ লাখ টাকা

অ+
অ-
নেক্সাস পে’র কর্মকর্তা পরিচয়ে কল, গ্রাহকের ব্যাংক থেকে উধাও ১৩ লাখ টাকা

ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড আপগ্রেডের কথা বলে খুলনার এক সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তারকৃতের নাম মো. রাকিবুল ইসলাম (২৩)। 

রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অভিযানে দিনাজপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

বিজ্ঞাপন

সিআইডি জানায়, অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।

জসীম উদ্দিন খান জানান, খুলনা বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত ৬ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির কল পান। কলকারী নিজেকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ‘নেক্সাস পে’ ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কার্ডের তথ্য হালনাগাদের কথা বলেন। ভুক্তভোগী তার ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য প্রদান করেন। এই সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্র গত ৭-৯ জানুয়ারি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ১২টি অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন করে এবং সর্বমোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৫ টাকা আত্মসাৎ করে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তীতে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিআইডি অধিগ্রহণ করার পর সাইবার পুলিশ সেন্টার ইউনিটের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে এবং অভিযানের মাধ্যমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন, তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি জানান, ২০২৩ সাল থেকে টেলিগ্রাম নামক একটি মেসেজিং অ্যাপে বিভিন্ন অনলাইন কাজের প্রলোভনে পড়ে সে প্রতারক চক্রটির সঙ্গে যুক্ত হয়। পরবর্তীতে চক্রটির নির্দেশনায় তিনি ‘Line Bet’ ও ‘Raddy’ নামে অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতারক চক্রকে সহায়তা করত। একইসঙ্গে আত্মীয়-স্বজনের একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যাদি সংগ্রহ করে সেগুলো অবৈধ অর্থ লেনদেনের কাজে ব্যবহার করতেন।

তিনি বলেন, অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এমএসি/এমএসএ