বিজ্ঞাপন

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

অ+
অ-
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন কমিশনের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

পদত্যাগের পর একটি খোলা চিঠি লিখেছেন তারা। যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার কর্তৃক বাতিল করে যে বক্তব্য দিয়েছে তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে খোলা চিঠিতে।

মানবাধিকার কমিশনের সচিব কুদরত-এ-ইলাহী গণমাধ্যমকে বলেছেন, অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আগের কমিশন আর নেই।

একই বক্তব্য দিয়েছেন মানবাধিকার কমিশনের বিদায়ী সদস্য নাবিলা ইদ্রিস।

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ করা হলে কুদরত-এ-ইলাহী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা দায়িত্ব নিয়েছিলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়। যে অধ্যাদেশের আলোকে আমরা দায়িত্ব সেই অধ্যাদেশটিই বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার বাতিল করেছে। সঙ্গতঃ দায়িত্বে থাকার সুযোগই আর নাই। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমাদের থাকার আর সুযোগ নেই।

এখানে উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ওই অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে প্রণীত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ পুনরায় চালু হলো।

সংসদ অধ্যাদেশটি বাতিলের পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ কমিশনের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

খোলা চিঠিতে বিদায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর পাশাপাশি সদস্য নুর খান, ইলিরা দেওয়ান, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাবিলা ইদ্রিসের স্বাক্ষর রয়েছে।

খোলা চিঠির দেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে চিঠির শুরুতে লেখা হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায়, ভুক্তভোগীরা আমাদের বারবার প্রশ্ন করছেন– “এখন আমাদের কী হবে?” তাঁদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই খোলাচিঠি।’

‘কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, ভুক্তভোগীদের প্রতি কর্তব্যবোধ থেকে আজ আমরা কলম হাতে নিয়েছি।’

চিঠিতে ‘সংসদে উপস্থাপিত ভুল তথ্যের জবাব’, ‘অধ্যাদেশগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের প্রকৃত আপত্তিসমূহ’ এবং ‘ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান বিচারের প্রস্তাবনা’—এমন তিন উপশিরোনামে নিজেদের অবস্থান এবং অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন বিদায়ী কমিশনাররা।

জেইউ/এমএন