বিদেশগামী ৫০ হাজার যাত্রীর বিশেষ ফ্লাইটের দাবি

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১৮ পিএম


বিদেশগামী ৫০ হাজার যাত্রীর বিশেষ ফ্লাইটের দাবি

টিকিট সংকটের কারণে দেশে এখন ৪০ থেকে ৫০ হাজার বিদেশগামী যাত্রী অপেক্ষায় রয়েছেন। যাত্রীদের এই সংকট মেটাতে দ্রুত বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সম্মিলিত সমন্বয় পরিষদ।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন বায়রার সাবেক অর্থ সচিব মো. ফখরুল ইসলাম। মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশে বিদেশগামী কর্মীদের এয়ার টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বায়রার সাবেক সভাপতি ও সম্মিলিত সমন্বয় পরিষদের প্যানেল প্রধান আলহাজ্ব আবুল বাসার। এ সময় সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যেসব দেশে বাংলাদেশি শ্রমবাজার বিদ্যমান, কেবল সেসব দেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রেই বিমানের (এয়ারলাইন্স) টিকিটের দুষ্প্রাপ্যতা ও অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধির ঘটনা ঘটছে। আমরা দ্রুত এই অবস্থার অবসান চাই। বিদেশিগামী কর্মীদের জন্য লেবার ফেয়ার চালু ও সিভিল এভিয়েশনের কার্যকরী ভূমিকার মাধ্যমে বিমানের ভাড়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মাইলস নীতিমালা অনুসরণের কথা জানানো হয়। 

বায়রার সাবেক অর্থ সচিব মো. ফখরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের টার্গেট করে অনৈতিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধির করছে। এ ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশ বিমানকে দায়ী করেন।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান দেখাতে টিকিটের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে বিদেশি বা স্থানীয় বিমান কোম্পানি তাদের টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে সিন্ডিকেট ও এজেন্টরা লাভবান হচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামের কৃষক সন্তান, খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানরা অতিরিক্ত টাকায় টিকিট কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। যথাসময়ে কর্মস্থলে যাওয়া অভিবাসী কর্মীদের কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়- এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া প্রবাসগামীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোন সংস্থা তদারকি করছে বলে মনে হচ্ছে না। প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভারত, শ্রীলংকার তুলনায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিমানের ভাড়া কয়েকগুণ বেশি। আপনারা যেনে অবাক হবেন- ঢাকা থেকে ৬ ঘণ্টার জার্নি রিয়াদে, সেখানে যেতে ভাড়া লাগে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। অথচ ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক ২৩ ঘণ্টার জার্নিতে ভাড়া লাগছে মাত্র ৬৫ হাজার টাকা।

আগে যে বিমান (এয়ারলাইন্স) টিকিটের মূল্য ছিল ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা সেই টিকিট এখন ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

এর সমাধানে দেশীয় সংস্থা বিমানকে ভাড়ার মডেল তৈরি করে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে সেটি অনুসরণ এবং কোনো গন্তব্যে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সেই রুটে বিমানকে শিগগিরিই স্পেশাল ফ্লাইটের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান রিক্রুটিং এজেন্সি ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া কোনো ট্রাভেল এজেন্সির কাছে অগ্রিম গ্রুপ টিকিট ইস্যু না করে সব এয়ারলাইন্সের অবিক্রীত আসন অনলাইনে (জিডিএ) দৃশ্যমান রাখার প্রস্তাব করেছে খাত সংশ্লিষ্টরা।

এমআই/ওএফ

Link copied