পুরস্কার বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১৯ পিএম


পুরস্কার বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) নারী ক্ষমতায়ন উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ‘এসডিজি অর্জনে জেন্ডার-রেসপন্সিভ সেবা’ ক্যাটাগরিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘জাতিসংঘ জনসেবা পদক ২০২১’ পাওয়ার পর এ পুরস্কার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে উৎসর্গ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। 

বুধবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে জাতিসংঘ জনসেবা পদক-২০২১ দিয়েছে জাতিসংঘ। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচিতে (সিপিপি) নারীর ক্ষমতায়নে উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ‘এসডিজি অর্জনে জেন্ডার-রেসপন্সিভ সেবা’ ক্যাটাগরিতে গত ১৩ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জাতিসংঘ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদেরকে এ পদক দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে মহান বিজয়ের এই মাসে জনসেবায় শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তথা জাতিসংঘের এই পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া নিঃসন্দেহে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম সেরা অর্জন। 

Dhaka Post

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর ঝড়ে ১০ লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই সময়টাতে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন ও জনগণের পাশে দাঁড়ান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তিনি তুলে ধরেন, ঘূর্ণিঝড় থেকে মানুষকে রক্ষায় তদানীন্তন পাকিস্তানি সরকারের অবজ্ঞা, অবহেলার ও অদক্ষতার অসংখ্য প্রমাণ। বঙ্গবন্ধুর ওই ভূমিকায় নড়েচড়ে বসে বিশ্ব। ক্ষণিকের জন্য হলেও স্তম্ভিত হয়ে পড়ে গোটা বিশ্ব। বঙ্গবন্ধুর সেই ভূমিকায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির কার্যকরিতা প্রসারিত হয়।  

তিনি বলেন, তখন থেকেই দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ব্যবস্থাপনাকে প্রাতিষ্ঠানিকী করার গুরুত্ব উপলব্ধি করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে রক্ষায় জাতির পিতা হাতিয়ার মৌলভীর চরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রথম মুজিব কিল্লা (সাইক্লোন সেন্টার সেন্টার) নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এভাবে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ১৩৭টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ করেন। 

নিজেদের শক্তি ও সামর্থকে দুর্যোগ মোকাবেলায় নিয়োজিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু সিপিপিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পরই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিলেন বঙ্গবন্ধু। অনুমোদন দিলেন, সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রামের যাবতীয় খরচ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। 

তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে ওয়ারল্যাসের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে কথা বলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। গড়ে তোলেন বিশাল এক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সিপিপি। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এ প্রতিষ্ঠানটিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আধুনিক রূপে রূপায়িত করার ফলে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচিতেই নারীর ক্ষমতায়নে উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশকে গৌরবময় পদক দিয়েছে জাতিসংঘ। 

বাংলাদেশে এক সময় যেকোনো দুর্যোগে নারীদের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হতো বলে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিন্তু এ চিত্র অভাবনীয়ভাবে পাল্টে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ফলে নারীরা এখন লিঙ্গ বৈষম্যহীন দুর্যোগ সহনীয় সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শক্তি হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। 

এসএইচআর/এনএফ

Link copied