মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী ইতিহাস ও আগামী প্রজন্ম

স্বাধীনতার মাস মার্চ। একাত্তরের ৯ মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের নির্যাতন এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। তাই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের শিকড়ের ইতিহাস। একাত্তর কতটা গৌরব, বেদনা আর আত্মত্যাগের ইতিহাস বহন করে তা জানাতে তৃণমূলের কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরছি শুরুতেই।
যশোরের শার্শার ঘটনা। একাত্তরে যখন দেশমাতৃকার মুক্তির ডাক এলো, আজিজুর রহমানের বয়স তখন ছিল ৭২ বছর। জীবনের এই অপরাহ্ণে এসেও তিনি ছিলেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তার ছেলে আলমগীর কবীর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে সশস্ত্র যুদ্ধের কঠিন প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
সুচিকিৎসক আজিজুর রহমানের ছেলে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে-এই খবরটি স্থানীয় শান্তি কমিটির কাছে মোটেই স্বস্তিদায়ক ছিল না। এই শান্তি কমিটির সদস্যরাই পরবর্তীতে কুখ্যাত রাজাকার বাহিনীতে নাম লেখায় এবং তারাই পাকিস্তানি ঘাতক সেনাদের কাছে আজিজুর রহমানের বাড়িটি সুনির্দিষ্টভাবে চিনিয়ে দেয়।
পিতার শহীদ হওয়ার সেই বিষাদময় স্মৃতিচারণ করেন মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর কবীর। তিনি বলেন, “শার্শা থানার প্রথম শহীদ আমার বাবা। মূলত আমার মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার অপরাধেই বাবাকে ধরে নিয়ে যায় ওরা।”
এপ্রিলে নাভারণ রেল বাজার এলাকাটি পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে চলে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন নিরাপত্তার খোঁজে সীমান্তবর্তী গ্রাম সালতায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু বয়সের ভার এবং নিজের ভিটেমাটির প্রতি মমতার কারণে নিজ বাড়িতেই থেকে যান আজিজুর রহমান।
তার আরেক পুত্র নাজমুল আহসান ওইদিন বাবার সঙ্গে দেখা করতে শেষবারের মতো বাড়িতে আসেন। একাত্তরের সেই বিভীষিকাময় রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বললেন যেভাবে, “১৪ এপ্রিল ১৯৭১। রাতে আমি আর বাবা খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে দরজায় প্রচণ্ড করাঘাতের শব্দ। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে একজন পাকিস্তানি সেনা অফিসার সাত-আটজন সশস্ত্র সৈন্যসহ হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা ঘর তল্লাশি শুরু করে এবং চিৎকার করে ধমকাতে থাকে, ‘মুক্তি কাহা হ্যায়?’ প্রায় দশ-পনেরো মিনিট তাণ্ডব চালানোর পর তারা বাবাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।”
নাজমুল আহসান আরও যোগ করেন, “আমি তাদের পিছু নিই। ঘরের বাইরে উঠানের কাছে আসতেই থমকে দাঁড়াই। দেখি, তোফাজ্জেল মুন্সির ছেলে কুখ্যাত রাজাকার আব্দুল কাদের শুকুরকে। সেই-ই খবর দিয়ে পাকিস্তানি আর্মিদের আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। শুকুর আমাকে দেখে বেশ অপ্রস্তুত হয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। তৎকালীন সেই কঠিন কারফিউর মধ্যে শুকুর কীভাবে সেখানে উপস্থিত হলো? আসলে বাবার গ্রেপ্তার ও হত্যায় এই রাজাকারের সরাসরি সহযোগিতা ছিল।”
কোথায় হত্যা করা হয়েছিল তাকে? মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর কবীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানান, “নাভারণে ‘ঢকের বাগান’ নামক একটা জায়গা আছে। একাত্তরে পাকিস্তানি সেনারা ওখানেই স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে ধরে এনে গুলি করে মেরে ফেলে দিত। হয়তো ওখানেই ঘাতকের বুলেট বিদ্ধ করেছিল বাবার বুক। বাবার লাশ পাইনি, ফলে তার কোনো সুনির্দিষ্ট কবরও নেই। তবে স্বাধীন এই দেশের মাটির সঙ্গে মিশে আছে আমার বাবার রক্ত, তাই এই মাটি আমাদের কাছে পবিত্র!”
আলমগীর কবীর আরও বলেন, “একাত্তরের রাজাকাররা আজ যতই পাক-পবিত্র সাজুক না কেন, আমাদের কাছে তারা চিরকালই শহীদ পিতার হত্যাকারী হিসেবেই গণ্য হবে। মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রিয়জন হারাননি, যারা কাছ থেকে রাজাকার ও আলবদরদের নিষ্ঠুরতা দেখেননি, তারা এটি কোনোদিন উপলব্ধি করতে পারবেন না।”
একাত্তরে পাকিস্তানি সেনারা নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটনায় রাজশাহীর চারঘাট থানাপাড়ায়, সারদা পুলিশ একাডেমি চত্বরেও। সেই হত্যাযজ্ঞে হয়তো শহীদ হতেন অধ্যাপক জিন্নাতুল আলম জিন্নাও। কিন্তু অলৌকিকভাবে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন তিনি।
পুলিশ একাডেমির পাশেই তার বাড়ি। তখন তিনি সম্মান চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। থানাপাড়া গণহত্যায় খুব কাছ থেকে দেখেছেন প্রিয়জনের মৃত্যু, নিজের কাঁধে টেনেছেন লাশের ভার, শহীদদের রক্তে ভিজেছে তার শরীর। সেই রক্তাক্ত দিনটির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি এখনও শিউরে ওঠেন।
তিনি বলেন, ‘তেরোই এপ্রিল, ১৯৭১। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় হাজারের ওপর নিরীহ-নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। ওইদিন সেখানে শহীদ হয় ছোট ভাই শফিকুল আলম পান্না, চাচা আজিজুল আলম, চাচাতো ভাই খায়রুল আলম পরাগ, আমার ছোট ভগ্নিপতি মহসীন আলীসহ গ্রামের অনেক পরিচিত মুখ।
বেলা তখন আনুমানিক দুইটা বা আড়াইটা। ওরা এসে ব্রাশফায়ার চালাতেই চাচাতো ভাই খায়রুল আলম পরাগের কণ্ঠ শুনতে পেলাম। ‘আম্মা!’ বলে একটা চিৎকার দিল সে। বুঝে গেলাম, পরাগ ভাই আর নেই।
আমাদের কয়েকজনকে ওরা প্যারেড গ্রাউন্ডে নিয়ে এলো। খানিক পরই সেখান থেকে দেখা গেল, চরে স্তূপ করা লাশের ভেতর থেকে অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় দিগ্বিদিক ছুটছে। পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন তখন চিৎকার করে বলে উঠল, “শালা ইয়ে লোক তো জিন্দা হ্যায় আব তাক! এলএমজি ছোড়ো, এলএমজি ছোড়ো।” এরপর এলএমজি চালিয়ে নৃশংসভাবে ওই আহত মানুষগুলো হত্যা করা হলো।
আমাদের আবারও চরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যেতেই দেখি চাচা আজিজুল আলমকে। গুলি লেগে তার নাড়িভুঁড়ির অনেকটাই বের হয়ে এসেছে। যন্ত্রণায় তিনি কাতরাচ্ছেন, তবে জ্ঞান তখনো ছিল। রক্তে চারপাশটা ভেসে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করে চাচা ক্যাপ্টেনকে চেঁচিয়ে বলছিলেন, “ইয়ে কিয়া জুলুম হ্যায় ভাই! ইয়ে কিয়া জুলুম হ্যায়! খোদাতালা বরদাশত নেহি কারেগা।” কথাগুলো পরপর তিনবার বললেন তিনি।
শুনে ওই পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন গর্জে উঠল। “শুয়োর কা বাচ্চা” বলেই চাচার খুব কাছে গিয়ে কপালের মাঝ বরাবর একটা গুলি করল। মাথার খুলিটা উলটে গিয়ে গোটা মুখটাই ঢেকে গেল। তিনি তখন শুধু একবার ‘উহ্’ শব্দ করলেন। এরপরই উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন।
থানাপাড়ায় ওই একদিনে আনুমানিক ১ হাজার ৩০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। গোটা গ্রামে এমন কোনো পরিবার খুঁজে পাবেন না যে পরিবারের কেউ শহীদ হয়নি!
ইতিহাস তুলে আনতে একবার মুখোমুখি হই গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার তাড়াইল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা (বীরাঙ্গনা) শেখ ফাতেমা আলীর। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বিয়ে হয়েছিল তার। স্বামী ছিল পাকিস্তানি ঘেঁষা, তাই একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোয় গর্ভবতী ফাতেমাকে সে পাঠিয়ে দেয় বাবার বাড়িতে।
নৌকার মহাজন তার বাবা শেখ আতিয়ার রহমান। মুক্তিযোদ্ধাদের অকাতরে সাহায্য করতেন। সেই অপরাধের জেরে রাজাকারদের তথ্যে পাকিস্তানি সেনারা একদিন হানা দেয় তাদের বাড়িতে। চোখের সামনে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে ফাতেমার চার ভাই-শেখ ফরিদ, শেখ মনসুর আলী, শেখ জুবায়ের হোসেন, শেখ জাকির হোসেন এবং আদরের ছোট বোন নাজমাকে।
প্রাণভয়ে বাকিরা আশ্রয় নিয়েছিলেন বাবার গয়নার নৌকায়। রামদে বাজারের কাছে সেই নৌকাতেই কাটছিল তাদের অনিশ্চিত জীবন। ফাতেমা আলীর স্মৃতিতে সেই দিনের কথা আজও দগদগে।
তিনি বললেন যেভাবে, “একদিন আমি আর বাবায় নৌকায়। তহনই গ্রামের রাজাকাররা আমগো নৌকাটা আর্মিগো দেখায়া দেয়। পাকিস্তানি আর্মিরা পিঁপড়ার মতো আইসা নৌকার ভেতর ঢোকে।”
তারপর শুরু হয় এক নারকীয় তাণ্ডব। হানাদাররা বয়োজ্যেষ্ঠ বাবাকে পিঠমোড়া করে বেঁধে রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করতে থাকে। বাবার আর্তনাদ শুনে মেয়ে ছুটে এলে, পাষণ্ডরা বাবার চোখের সামনেই মেয়ের ওপর চালায় পাশবিক নির্যাতন।
ফাতেমা বলেন, “বাবারে মারতে থাকে, আর আমার দিকে তাকায় না বইলা ওরা তারে আরও মারে। তহন হাউমাউ করে চিৎকার দিয়া কাঁদেন তিনি।”
সেই নরক থেকে বাঁচতে চেষ্টাও করেছিলেন ফাতেমা। সুযোগ বুঝে নৌকা থেকে নেমে দৌড় দিয়েছিলেন, কিন্তু রেহাই মেলেনি। হানাদারদের গুলিতে বিদ্ধ হয় তার পা, আর গোড়ালি ভেদ করে চলে যায় আরেকটি গুলি। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয় তার বুক ও শরীর। জ্ঞান হারান ফাতেমা। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আবিষ্কার করেন যশোরের শার্শার বাগআঁচড়া গ্রামের এক আর্মি ক্যাম্পে।
সেই ক্যাম্পের দিনগুলোর বর্ণনা দিতে তিনি জানান, সেখানে তার মতো আরও এক-দেড়শ নারী বন্দি ছিলেন। দিনরাত চলত পালাক্রমে ধর্ষণ আর নির্যাতন। শরীরের এমন কোনো স্থান নেই যেখানে সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়নি। খেতে দেওয়া হতো না, পানির তৃষ্ণায় ছটফট করলে চোখের সামনে পানি ফেলে দিয়ে প্রস্রাব খেতে বাধ্য করা হতো।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে তার গর্ভের সন্তানকে নিয়ে। ফাতেমা বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, “গর্ভবতী জেনেও ওরা আমার ওপর নির্যাতন করা বন্ধ রাখে নাই। শেষের দিকে পাকিস্তানি আর্মির নির্যাতনেই পেটের সন্তানটা পেটেই মরছে। তহন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি, ভাবছি নিজেও বাঁচমু না।”
চোখের জল শুকিয়ে যাওয়া এই মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠে শোনা গেলো শুধুই হাহাকার। অকপটে বললেন, “আপনারা সবাই তো স্বাধীন দেশ পাইছেন। কিন্তু নির্যাতন সহ্য করে যেই দেশ আমি পাইলাম, সেই দেশে নিজেই হইছি পরবাসী। বীরাঙ্গনা বলে নিজের বাড়িতেই আমার ঠাঁই হয় নাই। এই দুঃখ আমি কীভাবে ভুলব?”
একাত্তরে শহীদ আজিজুর রহমান, থানাপাড়ার শহীদদের আত্মত্যাগ আর বীর নারী ফাতেমা আলীর নির্যাতনের ঘটনা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অমলিন অধ্যায়। অসংখ্য শহীদের রক্তে ভেজা এই মাটিই আমাদের পরম অস্তিত্ব ও অনুপ্রেরণা। আজকের সবকিছু আগামী ইতিহাসের অংশ হবে এমনটা নয়, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনাদিকাল পর্যন্ত প্রজন্মকে উজ্জীবিত করবে।
আমরা সেই গর্বিত জাতি যে জাতি রক্ত দিয়ে ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতাকে। তাই আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত সত্য, সাহস, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের ইতিহাস তুলে ধরা অপরিহার্য।
এটি দেশপ্রেম, জাতীয় চেতনা এবং আত্মত্যাগের মূল্য বুঝতে সাহায্য করবে। কেননা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তরুণদের শিকড়ের সন্ধান দেয়, জাতিগত বিভ্রান্তি দূর করে। একাত্তরের অসীম আত্মত্যাগ ও বীরত্বের ঘটনাগুলো প্রজন্মকে দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ ধারণ করতে শেখায়। পাশাপাশি এটি তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার অনুপ্রেরণা ও শক্তি জোগায়।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে রাজনীতি কিংবা ইতিহাস বিকৃতি, বিতর্কিত বা অতিরঞ্জিত কিংবা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে নানা সময়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রজন্ম সে পথে হাঁটেনি।
প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা কঠিন। কেননা প্রকৃত সত্য তারা ঠিকই খুঁজে বের করে নেয়। সূর্যের আলো যেমন কুয়াশা কাটিয়ে দেয়, তেমনি সূর্যের মতো সত্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও মিথ্যা দিয়ে বদলে ফেলা যায় না। এটি প্রমাণিত হয়েছে নানা সময়ে, বারবার।
তাই আগামী প্রজন্ম যদি সত্যের অনুসারী হয়, ন্যায়-নীতি আর নিষ্ঠাবোধ যদি অন্তরে থাকে, তবে অবশ্যই তারা বুকের ভেতর মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী ইতিহাসকে ধারণ করবে। আর এভাবেই তাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে অসাম্প্রদায়িক ও উন্নত বাংলাদেশ।
সালেক খোকন : মুক্তিযুদ্ধ গবেষক
[email protected]