ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের করণীয় কী?

স্থিতিশীল ও জবাবদিহিমূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছাড়া একটি কার্যকর অর্থনীতি কল্পনা করা যায় না। বাংলাদেশে এই খাত বর্তমানে উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং শাসন দুর্বলতার কারণে চাপে রয়েছে। নতুন সরকার ১৮০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতির কথা বলেছে, কিন্তু যে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব বছরের পর বছর ধরে জমেছে, তা এত অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন
তাই বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা হলো ধাপে ধাপে স্বচ্ছতা ও কাঠামোগত সংস্কারের একটি দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য সূচনা। এই সংকটের প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে প্রথমেই দেখা দরকার সমস্যাগুলো কতটা গভীর এবং কোথায় কোথায় তার শিকড় গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের প্রায় প্রতিটি স্তরেই সমস্যা কতটা গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে তা বোঝা জরুরি।
খেলাপি ঋণ: ভেতর থেকে ফাঁপা এক কাঠামো
খেলাপি ঋণের অঙ্কটা ভাবলেই উদ্বেগ জাগে। সরকারি হিসাব এক কথা বললেও পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠিত ঋণ ধরলে প্রকৃত চিত্র অনেক বড়। দীর্ঘদিন ধরে ঋণ নিয়ে না ফেরানোর সংস্কৃতি ব্যাংকগুলোকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
২০২৫ সালের জুনে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এর সঙ্গে ৩ লাখ ৪৪ হাজার কোটির বেশি প্রভিশন ঘাটতি যোগ হয়ে চাপ আরও বেড়েছে। নগদ প্রবাহ কমছে, নতুন ঋণ বিতরণ থমকে যাচ্ছে, আর আস্থার সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।
তারল্য সংকট ও দুষ্টচক্র
কল মানি বাজারে সুদের হারের অস্বাভাবিক ওঠানামা স্বল্পমেয়াদি তারল্য ব্যবস্থাপনাকে ডুবিয়ে দিচ্ছে। একটি ব্যাংক যখন জানে না আগামীকাল কত সুদে রাতারাতি ঋণ পাবে তখন সে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহ হারায়। শিল্পোদ্যোক্তারা মেয়াদি ঋণ পান না, প্রবৃদ্ধির চাকা ধীর হয়, মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে মিলে তৈরি হয় এক দুষ্টচক্র—যেখান থেকে বের হতে হলে একটানা নীতি-সাহস দরকার।
বিজ্ঞাপন
বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এই ছবিকে আরও জটিল করেছে। ডলারের অভাবে আমদানিকারকরা এলসি খুলতে পারছেন না। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, রফতানিকারকরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে হুন্ডির বাজার ফুলে ফেঁপে উঠতে পারে, আর রিজার্ভের প্রকৃত চিত্র আরও অস্বচ্ছ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।
গভর্ন্যান্সের পতন: সবচেয়ে নীরব, সবচেয়ে বিধ্বংসী ক্ষত
এই পুরো সংকটের পেছনে সবচেয়ে নীরব অথচ সবচেয়ে বিধ্বংসী কারণটি হলো গভর্ন্যান্সের পতন। পরিচালনা পর্ষদে যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যের মূল্য বেড়েছে, ভেতরের নিরীক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিক রুটিনে সীমাবদ্ধ থেকেছে, আর বড় ঋণ পেতে দক্ষতা বা সক্ষমতার বদলে সম্পর্কই হয়ে উঠেছে প্রধান চাবিকাঠি।
বছরের পর বছর সীমিত কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণে পর্ষদ আবদ্ধ থাকায় ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ব্যাংক এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি তহবিলের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে, যেন কৃত্রিম সহায়তায় জীবনধারণ চলছে, প্রকৃত সুস্থতার পথে ফেরা নয়।
পাচার হওয়া সম্পদ: সাধারণ মানুষের আমানত বিদেশে
বছরের পর বছর ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা সুইস ব্যাংক, দুবাই, মালয়েশিয়া ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে। এটি কেবল সংখ্যা নয়, সাধারণ মানুষের আমানত ও রাষ্ট্রের সম্পদ। এই অর্থ ফেরানো কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।
নাইজেরিয়া ও ফিলিপাইনস আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা ও সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফিরিয়ে আনতে পেরেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে এমএলএটি সক্রিয় করা, বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া জরুরি। পুরো অর্থ নাও আসতে পারে, তবে আংশিক পুনরুদ্ধারও ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বের অভিজ্ঞতা: গভীর সংকট থেকে ফেরার গল্প
এতক্ষণ আমরা দেখলাম সংকটের গভীরতা। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে অন্য দেশগুলো কীভাবে বেরিয়ে এসেছে? বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এর চেয়েও গভীর সংকট সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সেই গল্পগুলোয় আমাদের জন্য মূল্যবান পথনির্দেশ আছে।
দক্ষিণ কোরিয়া: দ্রুত স্বীকারোক্তি ও কঠোর সংস্কার
১৯৯৭ সালের এশীয় আর্থিক সংকটে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকিং ব্যবস্থা গভীর সমস্যায় পড়ে এবং দেশটিকে আইএমএফের সহায়তা নিতে হয়। তখন সরকার প্রথমেই বাস্তব পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে স্বীকার করে। এরপর ‘কামকো’ নামে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করা হয়, যা খেলাপি ঋণগুলো কিনে নিয়ে ব্যাংকের হিসাব পরিষ্কার করে।
দুর্বল ব্যাংকগুলো বন্ধ বা একীভূত করা হয় এবং টিকে থাকার মতো ব্যাংকগুলোয় নতুন মূলধন সরবরাহ করা হয়। ধারাবাহিক ও সংগঠিত এই পদক্ষেপের ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
সুইডেন: স্বচ্ছতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত
১৯৯০-এর দশকে রিয়েল এস্টেট বাজার ধসে পড়ার পর সুইডেনের অনেক ব্যাংক বড় ক্ষতির মুখে পড়ে। তখন সরকার ব্যাংকগুলোয় তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার হিসাব প্রকাশ করতে বাধ্য করে। যে ব্যাংক টিকে থাকার সক্ষমতা দেখাতে পেরেছে, তাদের জন্য সরকারি গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। আর যেগুলো টেকেনি, সেগুলো বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নিয়ে বন্ধ বা পুনর্গঠন করা হয়েছে। স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই সুইডেনকে সংকট কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল।
আয়ারল্যান্ড: সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ আলাদা করে পুনর্গঠন
২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটে আয়ারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে এবং দেশটিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আইএমএফের সহায়তা নিতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ‘ন্যাশনাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি’ (NAMA) গঠন করে।
এই সংস্থা ব্যাংকগুলোর সমস্যাগ্রস্ত ঋণ ও সম্পদ কম দামে কিনে নিয়ে আলাদা করে ফেলে, ফলে ব্যাংকের হিসাব তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ হয় এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্র সেই সম্পদ ধাপে ধাপে বিক্রি করে উল্লেখযোগ্য অংশের ক্ষতি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
মালয়েশিয়া: নিজস্ব নীতিতে সংকট মোকাবিলা
এশীয় আর্থিক সংকটের সময় মালয়েশিয়া আইএমএফের শর্ত গ্রহণ করেনি। তারা নিজস্ব নীতির মাধ্যমে মূলধন প্রবাহে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এবং দুর্বল ব্যাংকগুলো একীভূত করে খাতকে ছোট ও শক্তিশালী করে। পাশাপাশি ‘দানাহার্তা’ নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়, যা সমস্যাগ্রস্ত ঋণ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারের কাজ করে। এই স্বাধীন ও সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে মালয়েশিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরে পায়।
ভিয়েতনাম: বৈধ রেমিট্যান্স ও রপ্তানিমুখী কৌশল
ভিয়েতনাম ২০১৩ সালে ‘ভিয়েতনাম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ (VAMC) গঠন করে খেলাপি ঋণ আলাদা করে ফেলে। এতে ব্যাংকের হিসাব ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে থাকে। দুর্বল ব্যাংকগুলো একীভূত করে সরকার সরাসরি তদারকি জোরদার করে। ফলে সংকট দীর্ঘায়িত হলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।
ভারত: সময় সীমাবদ্ধ আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
ভারত ২০১৬ সালে দেউলিয়া ও শোধন অক্ষমতা বিধিমালা চালু করে, যার মাধ্যমে ঋণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আনা হয়। আগে বড় ঋণের মামলা বছরের পর বছর আদালতে ঝুলে থাকত, এখন আইনি কাঠামো দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি করেছে।
এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য পৃথক বোর্ড ব্যুরো গঠন করে পেশাদার ও স্বাধীন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব সমস্যার সমাধান না হলেও, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে একটি কাঠামোবদ্ধ পথ তৈরি হয়েছে।
জাপানের সতর্কবার্তা: দেরির মূল্য চুকাতে হয় দশক ধরে
নব্বইয়ের দশকে জাপান ব্যাংক খাতের সংকট সময়মতো মোকাবিলা করতে পারেনি। খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়াল ও সিদ্ধান্তে দীর্ঘসূত্রতা দেশকে দীর্ঘ স্থবিরতায় ঠেলে দেয়, যা লস্ট ডিকেড নামে পরিচিত। বাংলাদেশের জন্য বার্তাটা পরিষ্কার। ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার স্বচ্ছ মূল্যায়ন, দুর্বল ব্যাংকের দ্রুত পুনর্গঠন এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ও সময় সীমাবদ্ধ ব্যবস্থা এখনই নিশ্চিত করতে হবে। এখন সিদ্ধান্ত না নিলে পরে সমস্যা আরও বড় হবে।
বাংলাদেশের জন্য পথরেখা: সাতটি কাজ যা এড়ানোর উপায় নেই
অন্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা দেখে বোঝা যায়, সংকট কাটাতে তারা কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছিল যেগুলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে। তাহলে বাংলাদেশের জন্য সুনির্দিষ্ট পথরেখাটি কেমন হওয়া উচিত? এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট পথ বের হয়ে আসে।
প্রথমত, সত্যিকারের চিত্র সামনে আনতে হবে। স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত অবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করতে হবে। কোরিয়া, সুইডেন সবাই এটিই আগে করেছিল। অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে সংস্কার হয় না।
দ্বিতীয়ত, একটি স্বাধীন সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি বা ‘ব্যাড ব্যাংক’ গড়তে হবে, যা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে খেলাপি ঋণ কিনে নেবে এবং আদায় করবে। এতে ব্যাংকের হিসাব পরিষ্কার হবে, নতুন ঋণ দেওয়ার জায়গা তৈরি হবে।
তৃতীয়ত, যে ব্যাংকগুলো খুব দুর্বল, তাদের পুনর্মূলধনীকরণ, একীভূতকরণ বা বন্ধ এই তিনটির একটি পথ বেছে নিতে বাধ্য করতে হবে। একটি মৃতপ্রায় ব্যাংককে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখলে সুস্থ ব্যাংকগুলোও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়।
চতুর্থত, বাংলাদেশ ব্যাংককে কার্যকর ও বাস্তব স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি ব্যাংকগুলোর প্রভাব বা চাপের মধ্যে থাকে, তাহলে তদারকি ও নীতিপ্রয়োগ বাস্তবে শক্তিশালী হয় না। ফলে অনিয়ম শনাক্ত হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া বিলম্বিত হয় বা সীমিত থাকে।
পঞ্চমত, গভর্ন্যান্সের সংস্কার না হলে বাকি সব সংস্কার টেকসই হবে না। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মতো ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার টেস্ট’ চালু করতে হবে। ব্যাংকের পরিচালক হতে হলে শুধু টাকা নয়, যোগ্যতা ও নৈতিকতাও লাগবে। একই পরিবার থেকে পরিচালক সংখ্যা সীমিত রাখার আইন কঠোরভাবে মানতে হবে।
ষষ্ঠত, বিনিময় হার ধীরে ধীরে বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। কৃত্রিমভাবে আটকে রাখলে হুন্ডি বাড়ে, রিজার্ভে চাপ পড়ে। প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে টাকা পাঠানো সহজ ও সাশ্রয়ী করলে রেমিট্যান্সের আনুষ্ঠানিক প্রবাহ নিজেই বাড়বে যেমনটি ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
সপ্তমত, ব্যাংক তদারকিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অ্যানালিটিক্স বাধ্যতামূলক করা দরকার। তুরস্ক ও এস্তোনিয়ার মতো কেন্দ্রীয় ঋণগ্রহীতা ডেটাবেজ গড়ে তুললে জালিয়াতির সুযোগ কমবে। আয়, সম্পদ ও লেনদেনের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে ঝুঁকি দ্রুত ধরা যায়। তবে প্রযুক্তির সঙ্গে শক্ত সাইবার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।
এই কাজগুলোর একটাও বাদ দিলে পুরো সংস্কার কাজ করবে না। তবে সংস্কারের চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ধারাবাহিকতা।
কাগজে-কলমে হিসাব মিললেও, মানুষ যদি ব্যাংকের ওপর আস্থা হারায় তাহলে সংকট থেকেই যায়। মানুষ যদি ব্যাংকে টাকা রাখতে দ্বিধায় পড়ে, আর কৃষক যদি সহজে ঋণ না পান তাহলে পুরো অর্থনীতিই ধাক্কা খায়।
নতুন সরকারের কাছে তাৎক্ষণিক অলৌকিক সমাধান নয়, প্রত্যাশা হচ্ছে বাস্তবসম্মত ও দৃঢ় সংস্কারের শুরু। কঠিন অবস্থা থেকে অন্য দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কঠিন সিদ্ধান্ত নিলে আর নিয়মিত কাজ করলে বাংলাদেশও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
তথ্যঋণ:
১. International Monetary Fund — "Systemic Banking Crises: A New Database" (Laeven & Valencia, 2012) | imf.org
২. World Bank — "Bank Regulation and Supervision Survey" ও Non-Performing Loans data | worldbank.org
৩. Korea Asset Management Corporation (KAMCO) — Annual Reports on NPL Resolution, 1998–2002 | kamco.or.kr
৪. National Asset Management Agency, Ireland — Annual Reports 2010–2020 | nama.ie
৫. Bangladesh Bank — Financial Stability Report 2023 এবং Monetary Policy Statement | bb.org.bd
৬. Global Financial Integrity — "Illicit Financial Flows from Developing Countries" | gfintegrity.org
৭. Bank for International Settlements — "Prudential Regulation and Supervision" Working Papers | bis.org
৮. https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1737527®=3&lang=2
শোয়েব সাম্য সিদ্দিক : ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
shammo4n@gmail.com