এ যেন সুরের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি। কালের যাত্রায় এক সুর সাধকের বিস্ময়যাত্রার সঙ্গী হওয়া আমাদের। আশা ভোঁসলে যুগের শ্রোতা সান্নিধ্যও এক বড় ব্যাপার। চোখের সামনে এখনো দিব্যমান শিল্পীর হাসিমুখ।
বিজ্ঞাপন
বছর কয়েক আগের ঘটনা। ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে আশা ভোঁসলের কনসার্ট। একটু একটু করে গল্প করছেন আর গাইছেন গান। আমরা মুগ্ধ দর্শক। এরকম মহীরুহ শিল্পীর গায়কি নিয়ে কথা বলাটা ধৃষ্টতার পর্যায়ে পড়ে। এত সাবলীল! এ যেন স্রষ্টার অবাক করা সুরের দূত! মন্ত্রমুগ্ধতায় মাঝরাত অব্দি গাইলেন। আমরা শুনছিলাম!
কলকাতায় আমার অ্যালবামের রেকর্ডিং করি ভাইব্রেশন স্টুডিওতে। স্টুডিওর কর্ণধার প্রখ্যাত শিল্পী ঊষা উত্থুপ। আশা ভোঁসলেসহ ভারতের অনেক কিংবদন্তি শিল্পী সেই স্টুডিওতে ভয়েস রেকর্ডিংয়ের কাজ করেছেন। একজন শিল্পী হিসেবে এমন মহামানবের পদচিহ্ন ছুঁয়ে যাওয়ার যে আনন্দ, তা ভাষায় প্রকাশের মতো না। আমি যখন আমার গান রেকর্ডিংয়ে ভয়েস বুথে যেতাম, প্রিয় শিল্পীর পদচিহ্ন ছুঁয়ে দেখার আনন্দে যেন গাইতাম।
সেই গ্রামোফোন যুগ থেকে আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আশা ভোঁসলে এমনই এক নাম। যিনি সব মাধ্যমেই ছিলেন প্রাসঙ্গিক।
বিজ্ঞাপন
ভারতের এই সুরের সম্রাজ্ঞী আট দশকেরও (১৯৩৩-২০২৬) বেশি সময় ধরে সংগীতজগতে রাজত্ব করে গেছেন। বহুমুখী কণ্ঠের অধিকারী আশা ভোঁসলে শাস্ত্রীয় সংগীত, গজল থেকে শুরু করে চটুল ও মেলোপপ সব ধরনের গানেই অনন্য স্বাক্ষর রেখে গেছেন।
গানের ক্ষেত্রে এই বৈচিত্র্য কিন্তু এ পৃথিবীতে হাতে গোনা ক’জন শিল্পীর রয়েছে। সবসময় সমকালীন আধুনিক সুরের সাথে নিজের কণ্ঠকে সঙ্গত করার আকুতি ছিল তার। তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ঠিক এসব ক্ষেত্রে একজন আশা ভোঁসলের মতো সমকালীন আর কারও ভেতরে খুব একটা দেখা যায়নি।
এক সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি এই শিল্পী বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর সব ধরনের মিউজিশিয়ানদের সাথে আমি গান গাইতে চাই। আমার কাছে প্রজন্ম ভেদে গানের কোনো বিভাজন নেই। বরং কালকের তরুণ মিউজিশিয়ান এই পৃথিবীর নতুন সুরের সাথে যে সংযুক্তি তৈরি করছে তা থেকে আমিও শিখতে চাই।’
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ ভারতের সংগীত প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে নিজের শেষ ইচ্ছে প্রসঙ্গে অভিমত ব্যক্ত করে বলেছিলেন, আমি যেন গান গাইতে গাইতে মারা যায়। উপস্থিত সব শিল্পী-দর্শক থেকে শুরু করে সবার চোখেই তখন জল। এসব দৃশ্য দেখে আমাদেরও মন ভারী হয়ে আসে।

তিনি মূলত আত্মনিবেদিত এক সঙ্গীত সাধক। এমন শিল্পীকে শুধু একটি দেশ কাল বিভাগের ভেতরে আলোচনাটাও করা ঠিক নয়। তিনি যেন তার সুরের বিচরণে বৈশ্বিক থাকারই চেষ্টা করে গেছেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে আরডি বর্মণ, ওপি নায়ার, বাপ্পি লাহিড়ীর মতো কিংবদন্তির সাথে অবিস্মরণীয় সব কাজ করেছেন। তার সর্বশেষ কাজ ছিল ব্রিটিশ ভার্চুয়াল ব্যান্ড গরিলাজ (Gorillaz)-এর সাথে ‘দ্য মাউন্টেন (The Mountain, 2026)’। মেধায় মননে আর ভাবনায় কতটা আধুনিক হলে এত বৈচিত্র্যপূর্ণ কাজ করা সম্ভব।
এছাড়াও তিনি বয় জর্জ, ক্রোনোস কোয়ার্টেট এবং মাইকেল স্টাইপের মতো শিল্পীদের সাথে আন্তর্জাতিক কোলাবরেশনে কাজ করেছেন। গোটা উপমহাদেশে এরকম উদাহরণ সত্যিই কম। বয়সটা যেন তার কাছে শুধুই একটি নম্বর। তিনি যথার্থ প্রয়োগ করেছেন তার জীবনে।
একজন আশা ভোঁসলের প্লে-লিস্ট দেখলে যে কারও অবিশ্বাস্য মনে হবে। ধরুন সর্বশেষ ব্রেট লির সাথে ‘আশা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অ্যালবামে কাজ করা। বয়সের মাপে শিল্পী তার নাতনিদের বয়সী তুখোড় মিউজিশিয়ানদের সাথেও কী অসাধারণ মেলো রোমান্টিক কাজ করে গেছেন।
এই বহুমুখী কাজের মাধ্যমে তিনি ক্লাসিক গান থেকে শুরু করে আধুনিক ইলেকট্রনিক পপ মিউজিক পর্যন্ত নিজের কণ্ঠ ছড়িয়ে গেছেন। তাই মহাকালের অনেক সময়ের পথ ধরে একজন আশা ভোঁসলে প্রাসঙ্গিক থেকে যাবে। হয়ে উঠবেন শিল্পী মিউজিশিয়ানদের পাঠ্য।
আমাদের বাঙালি জীবনে বা বাংলা গানে আশা ভোঁসলে কীভাবে ঘরে ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন, সেই ঘটনাটা বেশ চমকপ্রদ।
১৯৫৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা ছবি ‘রাতের অন্ধকারে’র নাম মনে রয়েছে নিশ্চয়ই। অভিনয় করেছিলেন ছবি বিশ্বাস, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রাবতী দেবী, রাজলক্ষ্মী দেবী আর অতিথি শিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করেন বম্বের অভিনেত্রী সবিতা চ্যাটার্জি।
ছবিতে একটি ক্যাবারে নাচ ছিল, সেই উপলক্ষে প্রথমবার বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে এলেন হেলেন। হেলেনের সেই আইটেম ডান্সে জীবনে প্রথম বাংলা ছবিতে সুর দিলেন ভি বালসারা। গানের মূল কাঠামোটা বাংলায় রেখে নানা ভাষায় গানটি লিখেছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। নানারকম সাজে সেজে হেলেন এই গানে নাচ করবেন।
চীনা ভাষায় গানের কথা লিখতে গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজির হলেন বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের এক চাইনিজ জুতোর দোকানে। চাইনিজ দোকানদারকে বললেন, “সাহেব বল তো ‘আই লাভ ইউ’ কথাটা চীনা ভাষায় কী হবে?”

সাহেব বাঁধানো দাঁতে খিলখিলিয়ে হেসে উঠে বললেন ‘সিন আই দ্য উ আই নি’। চমৎকার ছন্দ পেলেন পুলক। গান লিখে ফেললেন ‘সিন আই দ্য/উ আই নি/ চীনা ভাষা জানো কী?/ শোনো তবে ইংরেজিতে তোমায় বলেছি/ ও মাই ডার্লিং আই লভ দি’।
হেলেনের জন্য বানানো এই গান গাইবেন কে? ভি বালসারা বললেন, ‘আশা ভোঁসলে হলে চলবে কি?’ আশা! সবাই চমকে উঠলেন? কলকাতার ছবিতে আশা কী গাইবেন? বালসারা বললেন, ‘আমার সঙ্গে ভালো পরিচয় আছে। আমি ওকে কলকাতায় নিয়ে আসতে পারি। তাই হলো।
এই ক্যাবারে গান ছাড়াও ভি বালসারা আশার জন্য আরেকটি রোমান্টিক গানের সুর করলেন। এই ছবিতেই আশা গাইলেন ‘এ হাওয়ায় এ হাওয়ায় কী সুরভি ঝরে’।
আশা কলকাতায় এলেন। বাংলা তখন আশা একদমই বলতে পারেন না। ভি বালসারা আর পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় আশাকে বাংলা গান শেখাতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে গেলেন। আশা ভোঁসলে ক্ষান্ত হলেন না। তিনি বাংলা’টা ঠিক ঠাক শিখবেনই।
সেই প্রথম বাংলা গান গাইলেন। তৈরি হলো নতুন এক ইতিহাস। গান তোলা শেষে আশা ভোঁসলের আবদারে গীতিকার, সুরকার ও গায়িকা তিনজনেই চৌরঙ্গীতে হাঁটতে বেরোলেন। কথা ছিল আশা ‘মহারাষ্ট্র নিবাসে’ উঠবেন। কিন্তু পছন্দ না হওয়ায় আশা উঠলেন গ্র্যান্ড হোটেলে। তখন প্লে-ব্যাক সিঙ্গারের ছবি পত্রপত্রিকায় অত প্রকাশিত হতো না।
তাই চৌরঙ্গীর রাস্তায় আশা ভোঁসলে হেঁটে বেড়ালেও তাকে কেউ চিনতে পারেনি। হোটেলে ফিরে পুলককে আশা জিজ্ঞেস করলেন ‘সুধীন দাশগুপ্ত নামের এক ভদ্রলোক যিনি বম্বেতে গুরু দত্তর ইউনিটে কাজ করেন তিনি কেমন সুর করেন?’ পুলক বললেন, ‘সুধীন আমার বন্ধু। খুব ভালো সুর করে।’ আশা বললেন, ‘সুধীনবাবু আমায় বাংলা আধুনিক গান গাইবার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি বাংলা গান করতে চাই নিয়মিত। বম্বে ফিরে তাহলে ওর সঙ্গে বসব।’
‘রাতের অন্ধকারে’-র রেকর্ডিং সেরে আশা ফিরে গেলেন বম্বে। এরপর সুধীন দাশগুপ্তর সুরে প্রথম আধুনিক বাংলা গান গাইলেন আশা। দুটি গান রেকর্ডের দুই পিঠে। ‘নাচ ময়ূরী নাচ রে’ এবং ‘আকাশে আজ রঙের খেলা’। এ দুটি গানের কথাও লিখেছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তখন বম্বেতে লতা মঙ্গেশকরের রমরমা অবস্থা। বাংলা গানেও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সলিল চৌধুরী আর সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের সুরে লতা হিট। লতার থেকে আলাদা গায়কি তৈরি করতেই গীতা দত্তর ঢংয়ে গাইতে শুরু করলেন আশা। গীতার তখন ঘরে-বাইরে সমস্যা। লতা যত এগোচ্ছেন গীতা তত ফুরিয়ে যাচ্ছেন। আর গীতার বিকল্প যেন হয়ে উঠছেন আশা। গান নিয়ে লতার যুগে আশা ভোঁসলের এ যেন এক কঠিন অন্তর্যাত্রা! তবে ইতিহাস বলে গীতা সরে না গেলে লতা-আশা দুই বোনের উত্থান এত সহজ হতো না।

পরবর্তীকালে এরই জের ধরে আশা ভোঁসলে আর রাহুল দেব বর্মণ জুটি হয়ে গেলেন। ভারতীয় সংগীতের ধারাটাই বদলে দিলেন রাহুল দেব বা আরডি। কিন্তু খুব মিষ্টি শ্রুতিমধুর বাংলা গানে আশাকে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন সুধীন দাশগুপ্ত-ই। সুধীন-আশা জুটি নিয়ে সেভাবে চর্চা হয় না, আশা বলতেই সবাই শুধু আরডি বর্মণের গানগুল শোনেন। এর কারণ আরডি আর আশা ভোঁসলের অপূর্ব রসায়ন। দুইজন যেন ছিলেন দুইজনার পরিপূরক।
তবে বাংলা ছায়াছবি ও আধুনিক গানে সুধীন-আশা জুটির অবদান অনস্বীকার্য। ‘কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে’, ‘সাগর ডাকে আয়’, ‘মন মেতেছে মন ময়ূরীর কি খেলা’ বা ‘কেন সর্বনাশের নেশা ধরিয়ে’ সুধীন দত্তের সুরে আশার এসব গান কী বাঙালিমন ভুলতে পারবে কোনোদিন?
মান্না দে’র সুরে আশা গেয়েছিলেন ‘যখন আকাশটা কালো হয় বাতাস নীরব থাকে’ আর ‘আমি খাতার পাতায় চেয়েছিলাম একটি তোমার সই গো’। মিষ্টি সুরে আশার গলায় এসব স্নিগ্ধ গান তখন মন ভরাতো রেডিওর ‘অনুরোধের আসর’-এ।
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তার সুরারোপে আশাকে দিয়ে খুব বেশি না গাওয়ালেও ‘মন নিয়ে (১৯৬৯)’ ছবিতে দারুণ গান গাইয়েছিলেন। ‘দীপ জ্বেলে ওই তারা এ কী কথা বলে যায়’ আশার গলায় এ গান যেন ভিন্ন মাদকতা তৈরি করে।
রবীন্দ্রসংগীতে আশা প্লে-ব্যাক করেছিলেন হেমন্তর হাত ধরেই। ‘মন নিয়ে’ ছবিতেই হেমন্ত-আশা ডুয়েট গাইলেন উত্তম-সুপ্রিয়ার লিপে ‘আমি পথভোলা এক পথিক এসেছি’। তরুণ মজুমদারের ‘কুহেলি’তেও হেমন্তর সংগীতায়োজনে আশা গাইলেন ‘মেঘের কোলে রোদ উঠেছে’।
এদিকে আশা-আর ডি জুটির বাংলা ছবিতে প্রথম প্লে-ব্যাক উত্তমকুমারের ‘রাজকুমারী (১৯৭০)’ ছবিতে। সুরের খেয়ায় প্রেম। অতঃপর প্রণয়। রাহুল দেব বর্মণকে বিয়ে করে আশা হলেন বাংলার বধূ। অন্যদিকে আশা-আর ডি জুটি একের পর এক হিট দিতে থাকলেন আশির দশকে। আশা-আরডি জুটি হয়ে উঠলেন তুমুল জনপ্রিয়।

যে মেয়েটি বাংলা জানতো না, সেই আশা-ই হয়ে উঠলেন বাংলা সিনেমা বা আধুনিক গানের অপরিহার্য এক নাম। নচিকেতা ঘোষ, বাপ্পি লাহিড়ী, অজয় দাস, শ্যামল মিত্র প্রমুখ সুরকারদের সুরেও অনেক গান গেয়েছেন আশা।
এখানে একটা কথা উল্লেখ করা জরুরি, লতা মঙ্গেশকরের থেকেও কিন্তু আশা ভোঁসলের বাংলা প্লে-ব্যাক বহুগুণে বেশি। এ কারণে নানান অনুষঙ্গে আমাদের বাংলা গানের আরাধ্য নাম আশা ভোঁসলে। শিল্পীর অবদান এবং তার কণ্ঠের জাদুর পেছনের গল্পগুলো অত্যন্ত অনুপ্রেরণার। তিনি কেবল চলচ্চিত্রের গানই নয়, আধুনিক ও পূজা সংকলনের গানেও বাঙালির হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।
২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ও ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ অর্জন করেন, তবে এমন আরাধ্য শিল্পী তার সুরের একটা জীবন দিয়ে সম্মাননা স্মারকগুলোই হয়তো সম্মানিত করে গেছেন।
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম নেওয়া সংগীত পরিবারের কন্যা আশা ভোঁসলে। প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও সুরকার দীনানাথ মঙ্গেশকরের কন্যা এবং লতা মঙ্গেশকরের ছোট বোন আশা ভোঁসলে। এমনটাই পরিচয় ছিল তার ক্যারিয়ারের শুরুতে। কিন্তু নিজের বিস্তৃত গানের রসদ আর ক্যারিয়ার গ্রাফে তিনি হয়ে ওঠেন অনন্য। তাকে নিয়ে গবেষণা চলবে দীর্ঘকাল। এমন শিল্পীর যুগে আমরা থাকতে পেরেছি, তার গান সরাসরি দেখতে পেরেছি, এই দিনগুলো আমাদের অমূল্য স্মৃতিরসদ।
শ্রদ্ধা প্রিয় শিল্পী, হে কিংবদন্তি।
ড. অণিমা রায় : বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, সংগীত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
