বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সত্যিই বেদনাদায়ক

Atiur Rahman

০৬ নভেম্বর ২০২১, ০৮:১৮ এএম


বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সত্যিই বেদনাদায়ক

সম্প্রতি দুর্গাপূজার সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার যে কদর্য রূপ দেশবাসী দেখেছেন তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে এই সামাজিক অনাচার একেবারেই কাম্য নয়। বঙ্গবন্ধু সমাজে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঠেকানোর জন্যই সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্রের মৌলিক একটি স্তম্ভ হিসেবে যুক্ত করেছিলেন। তার সমগ্র রাজনৈতিক জীবনের শিক্ষা থেকেই তিনি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের সংবিধানে এই মহান আদর্শকে জাতির মননে গেঁথে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

১৯৪৬ সালের আগস্টে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তিনি খুব কাছে থেকে দেখেছেন। তা থেকে মানুষকে উদ্ধারের কাজ করেছিলেন। কলকাতার দাঙ্গা তার মনকে বিষিয়ে তুলেছিল। তার শিক্ষক ভবতোষ দত্তের লেখনীতে তা ধরা পড়েছে। তাছাড়া দেশভাগের পর যেভাবে সীমান্তের দুই দিকেই দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল তাতেও তিনি ভীষণ মর্মাহত হয়েছিলেন। এই দাঙ্গার শিকার মানুষদের বাঁচানোর জন্য তার রাজনৈতিক গুরু সোহরাওয়ার্দীর নির্দেশে ত্রাণ শিবির পরিচালনার জন্য পাটনা ও আসানসোলে দিনরাত পরিশ্রম করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

একইভাবে আমরা দেখি ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার হিসেবে শপথ নিয়েই সরাসরি চলে যান নারায়ণগঞ্জে, কেন্দ্রীয় সরকারের উসকানিতে ঘটে যাওয়া বাঙালি-অবাঙালির দাঙ্গা ঠেকাতে। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে ঢাকায় ঘটে যাওয়া দাঙ্গা ঠেকাতে তিনি ‘পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও’ ব্যানার হাতে আক্রান্তদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় তিনি যে বিবৃতিটি দিয়েছিলেন তার মোদ্দা কথাই ছিল যে, ‘সর্বশক্তি দ্বারা ঐক্যবদ্ধভাবে এই দুশমনদের আজ রুখিতে না পারিলে ভবিষ্যতে এই ঘাতক শ্রেণির ছুরি আমাদের সকলের জীবন ও সম্পত্তির উপর উদ্যত হইবে। প্রতি মহল্লায় দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করুন। গুণ্ডাদের শায়েস্তা করুন, নির্মূল করুন।’

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সংসদে বলেছিলেন, ‘আমরা ধর্মাচরণ বন্ধ করব না, মুসলমান তাদের ধর্ম পালন করবেন, হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবেন, বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবেন, খ্রিস্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবেন আমাদের আপত্তি শুধু ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারে।’

তিনি জানতেন এই দাঙ্গা সমাজে যে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে তাতে ‘পূর্ববঙ্গের অর্থনৈতিক অবস্থার উপর গুরুতর আঘাত হানিবে।’ সে কারণেই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার অঙ্গীকার করেন। সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে এই অঙ্গীকারের বিস্তারিত ব্যাখ্যা হিসেবে বলা হয়েছে যে, ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য ‘(ক) সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা, (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার, (ঘ) কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।’ 

মনে রাখা চাই, বঙ্গবন্ধু নিয়মিত ধর্ম চর্চা করতেন। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে তিনি লিখেছেন জেলে থাকার সময় তিনি নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং কোরআন তিলাওয়াত করতেন। তবে একই সঙ্গে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতাতেও বিশ্বাসী ছিলেন। সেজন্যে নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন সম্প্রতি বলেছেন, “ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্ম-বিরোধিতা হিসেবে দেখবার চিন্তাধারাকে মুজিবুর রহমান বিশেষ মূল্য দেননি। ধর্মীয় আচারকে এড়িয়ে চলার বা ‘ধর্মনিরপেক্ষ হওয়ার’ তাগিদে ধর্মাচরণের সক্ষমতাকে অস্বীকার করার কোনো প্রয়োজন তিনি বোধ করেননি।” তাই তো ১৯৭২ সালে তিনি সংসদে বলেছিলেন, ‘আমরা ধর্মাচরণ বন্ধ করব না, মুসলমান তাদের ধর্ম পালন করবেন, হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবেন, বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবেন, খ্রিস্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবেন আমাদের আপত্তি শুধু ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারে।’ তার মানে ধর্মাচরণের সক্ষমতাকে এখানে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বলেছিলেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অন্য সমস্ত নাগরিকের অধিকার এবং সুযোগ ভোগ করার স্বত্ব থাকা চাই।’

ধর্মাচরণের সক্ষমতাসহ ধর্মনিরপেক্ষতার অধিকারের এমন সুস্পষ্ট সাংবিধানিক নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও প্রায়শই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্মম হামলা হয়। সেই সময় মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে হৃদয় ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছিল। অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা উদারনৈতিক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ফিরে পেয়েছি। সেই বাংলাদেশে এবার যা ঘটল তা সত্যি মেনে নেওয়া কষ্টকর।

হাজার বছর ধরে হিন্দু-মুসলিম মিলেই শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করে আসছেন। তাহলে কেন এবারে এমন ব্যত্যয় ঘটল? এর ফলে যে আমাদেরই প্রতিবেশী ভাই-বোনের মনটা ভেঙে গেল, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটল এবং সর্বোপরি অজানা এক আতঙ্ক প্রাণে বাসা বাঁধল। এর থেকে তাদের বের করে আনার উপায় কি? তবে এসবের পুরো দায় রাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে দিয়ে সমাজ তার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না। আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির ভেতরটায় যে এমন করে ঘুণে ধরেছে তা কি কেউই জানতেন না? নিশ্চয় সমাজের সক্রিয়তা ও সংস্কৃতির ফল্গুধারা থেমে গিয়েছিল অনেকদিন ধরেই। তা না হলে হঠাৎ করে এমনটি ঘটতে পারে না।

আর সেকারণেই এখন দরকার এই অনাচারের বিরুদ্ধে শুভ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক শক্তির একযোগে উঠে দাঁড়ানোর। সরকার বলছে, অপরাধীদের চিহ্নিত করা গেছে। আশা করি, এই কাজটি যেন খুবই সুচারুভাবে করা হয়। দলমত নির্বিশেষে সত্যিকার অপরাধীরাই যেন পুলিশের জালে আটকা পড়ে সেই প্রত্যাশাই করছি।

আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির ভেতরটায় যে এমন করে ঘুণে ধরেছে তা কি কেউই জানতেন না? নিশ্চয় সমাজের সক্রিয়তা ও সংস্কৃতির ফল্গুধারা থেমে গিয়েছিল অনেকদিন ধরেই। তা না হলে হঠাৎ করে এমনটি ঘটতে পারে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। কেননা আমরা দেখেছি ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ধর্মান্ধ জঙ্গিদের আক্রমণের পর তিনি যে শক্ত ব্যবস্থা নিয়েছিলেন তাতে সমাজে শান্তি ফিরে এসেছে। এই আক্রমণে জাপান ও ইতালিসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকরাও নিহত হয়েছিলেন। দারুণ এক অন্ধকার নেমে এসেছিল বাংলাদেশে। কিন্তু শুধু প্রশাসন ও পুলিশকে কাজে না লাগিয়ে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে বিরাট এক সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলেছিলেন। এর সুফল আমরা এখন পাচ্ছি।

বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকরা ফের বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছেন। আমাদের তরুণদের অনেককেই ভুল রাস্তা থেকে তাদের পরিবার ফিরিয়ে আনতে পেরেছিল। তাহলে এখন কেন এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পরবর্তী হতাশা ও সংখ্যালঘুদের মনঃকষ্ট দূর করতে পারব না? নিশ্চয় পারব। সেজন্য বেশকিছু প্রশাসনিক উদ্যোগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে দেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি আওয়ামী লীগসহ অন্য প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলো প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ছায়ানট, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, বিভিন্ন মাধ্যমের শিল্পী ও কলাকুশলীবৃন্দ এরই মধ্যে মানববন্ধন করেছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়েছে। তবে এবারে শত্রু অনেক বেশি ভয়ংকর হতে পেরেছিল সামাজিক মাধ্যম তথা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তরুণ সমাজকে টার্গেট করে তাই আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে তথ্যাভিযান চালিয়ে যেতে হবে। এই প্রেক্ষাপটেই কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ রাখতে চাই—

১. যে সব জায়গায় প্রশাসন ও পুলিশ, সরকার প্রধানের আশ্বাস সত্ত্বেও যথেষ্ট সক্রিয়তা দেখাতে পারেনি তার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। আরেকবার যেন এই দুর্বিষহ ঘটনা না ঘটে, তা যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে।

২. কমিউনিটি পুলিশের আরও বিস্তার ঘটাতে হবে। পুলিশকে জনগণের বন্ধু বানাতে সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের আরও গভীরভাবে যুক্ত করতে হবে। 

দীর্ঘমেয়াদে ধর্মনিরপেক্ষতার সাংবিধানিক অধিকারের কথাগুলো শিক্ষাজীবনের শুরুর দিকেই পাঠক্রমে যুক্ত করা গেলে শিশু-কিশোরদের মনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

৩. ছায়ানট ও জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ যেমন জাগরণী গান ও পাঠের মাধ্যমে সমাজের ভেতরের শুভ শক্তিকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছে সেরকম তৎপরতা সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকেই চালাতে হবে। 

৪. প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, সেজন্য ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রশাসন ও সমাজকে আমন্ত্রণ জানিয়ে উৎসবকে সর্বজনীন করে তোলা।

৫. স্থানীয় সরকার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যারাই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন তাদের দিকে সহায়তার হাত প্রসারিত করতে হবে। সাংস্কৃতিক শক্তির বিকাশে এমন রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন যুক্ত করা গেলে সম্মিলিতভাবে সামাজিক শক্তির বিকাশ ঘটানো সহজ হবে।

৬. দীর্ঘমেয়াদে ধর্মনিরপেক্ষতার সাংবিধানিক অধিকারের কথাগুলো শিক্ষাজীবনের শুরুর দিকেই পাঠক্রমে যুক্ত করা গেলে শিশু-কিশোরদের মনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি সব ধর্মের মানবিক দিকগুলো উদাহরণসহ সহজ ভাষায় পাঠক্রমে যুক্ত করা যেতে পারে। 

৭. শেষ পর্যন্ত সচেষ্ট সমাজই পারে সকল ধর্মের মানুষকে প্রীতির বন্ধনে বেঁধে ফেলতে। তাই সমাজের ভেতরে যে সাম্প্রদায়িক অনাচারের আবর্জনা জমেছে তা পুড়িয়ে ফেলার উপায় রাজনীতিক, প্রশাসক ও সমাজ-সংস্কৃতির সংগঠকদের সম্মিলিতভাবেই খুঁজে বের করতে হবে।

সামনেই ডিসেম্বর মাস। বিজয়ের মাস। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপনের এবং জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকীর সমাপনী অনুষ্ঠানের এই মাহেন্দ্র ক্ষণে আসুন আমরা প্রত্যেকেই প্রতিজ্ঞা করি যে, সাম্প্রদায়িকতার এই বিষবাষ্প আমরা উপড়ে ফেলবই। তবেই না জাতির পিতার আত্মা শান্তি পাবে।

উন্নয়ন অভিযাত্রাকে অক্ষুণ্ন রাখার জন্যেও ধর্মীয় উগ্রবাদিতা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি। সম্প্রতি প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু ‘প্রোজেক্ট সিন্ডিকেটে’ তার এক ব্লগে লিখেছেন যে, ‘এই অপশক্তিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাগে রেখেছেন বলেই দেশটির উন্নয়নের গতি রেখা এমন বাড়ন্ত।’ তিনি আরও লিখেছেন যে, ‘যেসব দেশ এ কাজটি করতে পারেনি সেসব দেশে উন্নয়ন গতিময় হতে পারেনি।’ এই বিচারেও বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা খুবই জরুরি হয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষের ভালোভাবে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকার জন্যেই এটি নীতি অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবি রাখে।

ড. আতিউর রহমান ।। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, গবেষক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর

Link copied