জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের মনোনয়ন বাতিলে ইসিতে জুলাই ঐক্যের স্মারকলিপি

জাতীয় পার্টি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী এই জোটের পক্ষ থেকে আজ (মঙ্গলবার) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর এই স্মারকলিপি জমা দেয় জুলাই ঐক্যের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।
স্মারকলিপি দেওয়ার আগে আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশন এলাকা থেকে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করেন জুলাই ঐক্যের নেতা-কর্মীরা। পদযাত্রাটি নির্বাচন ভবনের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কমিশনে প্রবেশ করে স্মারকলিপি জমা দেন। এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্লাবন তারিক, মুসাদ্দেক আলি ইবনে মুহাম্মদ, ইসরাফিল ফরাজী, মুন্সি বুরহান মাহমুদ ও ওলিউল্লাহ।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সরকারের সময়ে দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন। অথচ সেই গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত রাজনৈতিক শক্তির সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জোটের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, প্রশাসনে এখনো স্বৈরাচারের দোসররা বহাল রয়েছেন, যারা অতীতের বিতর্কিত নির্বাচন ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমন প্রশাসনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও দাবি করে জুলাই ঐক্য।
নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, ভোটগ্রহণে দায়িত্বরতদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার এবং সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর দ্রুত তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।
দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত না হলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জুলাই ঐক্য। তারা জানায়, গণহত্যাকারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেষ্টার বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্র-জনতা এবং শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন।
এসএআর/বিআরইউ