ন্যায্যমূল্য ও মজুরি নিশ্চিত করাই পরবর্তী সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে সাধারণ নাগরিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য এবং আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে, দেশের ৪০.৪ শতাংশ নাগরিক এক বছর আগের তুলনায় বর্তমানে খারাপ অবস্থায় রয়েছেন। এই সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও যমুনা টেলিভিশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ন্যায্যমূল্য ও মজুরি নিশ্চিত কীভাবে’ শীর্ষক এক সংলাপে এসব তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
২০২৫ সালের নভেম্বরে পরিচালিত জরিপের তথ্য তুলে ধরে সংলাপে জানানো হয়, ৪০.৪ শতাংশ নাগরিক মনে করেন তারা আগের বছরের চেয়ে খারাপ আছেন। অবস্থা অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে ২৭.৪ শতাংশ আয়ের সুযোগ কমে যাওয়া এবং ১৭ শতাংশ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন।
জরিপে আরও দেখা গেছে, ৩৩ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন, যার মধ্যে নারী ভোটারের হার ৪৩ শতাংশ।
সংলাপে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ক্যাথরিন সিসিল বলেন, নাগরিকদের উদ্বেগ এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়। ভোটাররা এখন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নিছক প্রতিশ্রুতি নয় বরং বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য কর্মপরিকল্পনা দেখতে চান।
কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. সাদিকা হক বলেন, সাপ্লাই চেইন থেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের একেবারে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়, তবে তাদের কার্যকরভাবে রেগুলেট করতে হবে। যাতে কৃষক ন্যায্য দাম পায় এবং ভোক্তাও সুরক্ষা পায়।
শ্রমিক অধিকার নিয়ে সানজিদা সুলতানা বলেন, সংসদ ও রাজনৈতিক আলোচনায় শ্রমিকদের বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করা জরুরি। অন্যদিকে, ডা. মনীষা চক্রবর্তী অবকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে ‘গণমুখী বাজেট’ ও আলাদা ‘শ্রম কমিশন’ গঠনের দাবি জানান।
সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু বলেন, মালিক-শ্রমিক নিয়মিত সংলাপ এবং কৃষিকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি।
জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সিন্ডিকেট দমনের ওপর জোর দেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সামান্থা শারমিন বলেন, শ্রমের সংজ্ঞা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে নতুন পেশাজীবীদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।
এসআর/এমজে