৩২ আসনেও আমরা সমর্থন দেব : গাজী আতাউর রহমান

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, আমাদের ২৬৮ আসনে প্রার্থী আছে আর ৩২টি আসন এখনো ফাঁকা আছে। এই ৩২ আসনেও আমরা সমর্থন দেব। সেখানে কাদেরকে আমরা সমর্থন দেব, এটা আমরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরে ডিসাইড করব।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, আমাদের নীতি-আদর্শ এবং লক্ষ্যের সঙ্গে যাদের মিল হবে, তাদের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য ক্যান্ডিডেট, তাদেরকে আমরা ইনশাআল্লাহ সমর্থন দেব। আমরা আশাবাদী গোটা বাংলাদেশের ৩০০ আসনেই আমাদের পক্ষের ক্যান্ডিডেট থাকবে, ইনশাআল্লাহ। ইসলামের পক্ষে ওয়ান বক্স, সেটার যাতে সঠিক বাস্তবায়ন হয়।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, সেখানে আরও ইসলামী সংগঠন আছে। তাদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। তাদের প্রতি আমাদের কোনো বিরূপ ধারণা নেই। তবে আমি তাদেরকে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব, তারা যাতে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান যে বক্তব্যটা দিয়েছেন, এটার ব্যাপারে যদি তাদের নীতি-আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করেন, তাহলে একটু ক্লিয়ার হয়ে নেন। আরেকটি বিষয়, এটা ছিল আমাদের আদর্শিক বিষয়। আরেকটা রাজনৈতিক বিষয়ও এখানে আছে। কারণ, শুধু একটি কারণেই আমাদের অবস্থান নয়। আরও বেশ কিছু কারণ আছে। মৌলিক কারণগুলো আমি বলছি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমরা যখন সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করব, আমরা যখন আগামীতে পার্লামেন্টে যাব তখন আমাদের ভোট নিয়ে যারা পার্লামেন্টে যাবেন, আমরা যাদের ভোট নিয়ে পার্লামেন্টে যাব, তাদের পারস্পরিক সমঝোতা-সমন্বয়, সম্মানবোধ থাকতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা নির্বাচন-পরবর্তী জাতীয় সরকার বিএনপির সঙ্গে গঠন করবেন। বেগম খালেদা জিয়া যে ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে গেছেন সেই ঐক্যের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। এখন আমাদের প্রশ্ন হলো, তিনি একটি অ্যালায়েন্সে আছেন, একটি সমঝোতায় আছেন, আগামীতে জাতীয় সরকার হবে নাকি কোন সরকার হবে, এটা মৌলিক প্রশ্ন। যেহেতু আমরা এদের (বিএনপি) প্রতিদ্বন্দ্বী, একটি প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সাথে গিয়ে উনি নিজে ঘোষণা দিয়ে আসলেন তিনি জাতীয় সরকার করবেন। তাদের ঐক্যের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন, আমাদের সাথে তো বিষয়টা তিনি ডিসকাস করেন নাই। তিনি এককভাবে ঘোষণাটা দিয়ে আসলেন।
তিনি বলেন, আমাদের শঙ্কা হলো, নির্বাচনের আগেই যেহেতু একটা সমঝোতা-সমন্বয় প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সাথে হয়ে যাচ্ছে, তাহলে এই নির্বাচনটা আসলে পাতানো নির্বাচন হবে কি না? এটা কি ইলেকশন হবে নাকি সিলেকশন হবে? এই শঙ্কাটাও আমাদের সামনে চলে এসেছে। আমরা চাই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী যে নির্বাচনী কলঙ্ক হয়েছে, সেই কলঙ্ক থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই। আর আমরা এমন সমঝোতার নির্বাচন, নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগির নির্বাচন এবং সিলেকশনের নির্বাচন– এটা আমরা চাই নাই। মানুষ এটা চায় না। কিন্তু আমরা সেই আশঙ্কা করছি। সেই আশঙ্কা থেকেও আমরা শঙ্কিত। আগামী দিনে আসলে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কি না।
এমএসআই/এসএসএইচ