ইসির সামনে সোমবার সকালে ছাত্রদল ফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে

ব্যালট পেপারে অনিয়ম ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদসহ তিন দফার দাবিতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনের অবস্থান কর্মসূচি আজকের মতো স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (১৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে আবারো কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সোমবার ফের কর্মসূচি চালানোর কথা জানান।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব বলেন, আমরা সেই সকাল থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী ইসির সামনে অবস্থান নিয়েছি। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আমরা সে অবস্থান কর্মসূচি ধরে রেখেছি। আমাদের ঘেরাও কর্মসূচি নিয়ে কোরো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, এক বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর যারা বটবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তারা কিন্তু এরইমধ্যে দেখবেন নানাবিধ বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছে। তো যা হোক সেটি তাদের একান্তই নিজস্ব বক্তব্য। আমরা তিনটি বিষয় অ্যাড্রেস করেছি। সেগুলো তো আপনারা জেনেছেন যে, পোস্টাল ব্যালট ইস্যুতে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে। এই বিষয়টি গুরুতর বিধায় তারা সবাই মিলে ঐক্যমতের ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী বারবার এই নির্বাচন কমিশন ভবনে এসে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত তারা প্রভাবিত করেছে এবং সেগুলো আমরা অ্যাড্রেস করেছি এবং তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে হ্যাঁ এ বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে। অবশ্যই পরবর্তীতে কেউ যেন এভাবে প্রভাব প্রতিপত্তিমূলক আচরণ করতে না পারে সেগুলো তারা দেখবে।
ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, আমরা আমাদের আজকের এই অবরোধ কর্মসূচি এখানে সমাপ্ত করব। ঘেরাও কর্মসূচি এখানে সমাপ্ত করব। আমরা আগামীকাল আবারো ১১টা থেকে আমাদের এই ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করব। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের এই ঘেরাও কর্মসূচি অব্যাহত রাখবো।
তিনি আরও বলেন, একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই, ২২ জানুয়ারি থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রচার প্রচারণা শুরু হচ্ছে। সেটা নিয়ে যদি কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়, এরপর থেকে যদি কোনো মব ক্রিয়েট করা হয়, আমরা কিন্তু বারবার বসে থাকবো না। আমরা তাদের এই বিষয়ে অবগত করেছি।
এর আগে বেলা ১১টায় নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে পূর্ব নির্ধারিত ‘নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি’ পালন করতে এসে বসে পড়েন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণসহ প্রতিটি থানা থেকে নেতাকর্মীরা ঘেরাও কর্মসূচিতে সহস্রাধিক নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে দেওয়া পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে ও বিপরীত পাশের সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া খণ্ড খণ্ডভাবে কয়েকটি গ্রুপ সড়কে ঘুরে ঘুরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের সামনের সড়কে বসে পড়ার কারণে এই সড়ক দিয়ে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। পথচারীদের বিভিন্ন পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
তার আগে বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের আসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
ছাত্রদলের ৩ অভিযোগ হচ্ছে—
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনি সংকেত।
এমএসআই/জেডএস