পরাজয়ের ভয়ে ছাত্রদল শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে চায় : ডা. তাহের

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন বন্ধে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের আন্দোলনকে ‘পরাজয়ের ভয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক পরাজয় এবং সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারানোর কারণেই ছাত্রদল এ ধরনের আন্দোলন করছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির।
ডা. তাহের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। নির্বাচন কমিশনের মূল কাজ হলো জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা করা, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করা তাদের এখতিয়ারের বাইরে।
তিনি অভিযোগ করেন, শাবিপ্রবির নির্বাচনকে অবৈধভাবে একবার স্থগিত করার কারণে ছাত্রদল সেখানে অবস্থান ধর্মঘটের সাহস পেয়েছে। জামায়াতের এ নেতা বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ও মেকানিজম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে কোনো কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারে না।
ছাত্রদলের আন্দোলনের নেপথ্য কারণ হিসেবে তিনি ডাকসু, চাকসু, রাসু এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জকসু নির্বাচনে তাদের ধারাবাহিক পরাজয়কে উল্লেখ করেন। ডা. তাহের বলেন, ছাত্রদল আশাবাদী ছিল যে লন্ডন থেকে নেতা আসার পর পরিস্থিতি বদলে যাবে, কিন্তু ফলাফল আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। সিলেটের বিশ্ববিদ্যালয়েও দেখা যাবে যে সাধারণ ছাত্ররা তাদের আর ভোট দেবে না– এটাই মূল কারণ, এর বেশি কিছু নেই।
জাতীয় রাজনীতিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রভাব নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্য প্রসঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দেশেরই অংশ এবং তারা বিভিন্ন গ্রামের শিক্ষার্থী। ডাকসুতে ভোট দেওয়া ছাত্ররা বাড়ি ফিরে ছাত্রদলের পক্ষে থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল যদি এই নির্বাচনগুলোতে জিতত, তবে বলা হতো জাতি জামায়াতকে চায় না। যেহেতু তারা হারছে, তাই এখন বলছে কোনো প্রভাব নেই।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে উল্লেখ করে ডা. তাহের বলেন, পুরোনো দিনের দখলবাজি ও অনৈতিক সুবিধা আর সহ্য হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের পরে ইতিবাচক সংস্কৃতি শুরু হয়েছে এবং ম্যান্ডেট পেলে সারা দেশে এ পরিবর্তন প্রযোজ্য হবে। তিনি নিজের ছাত্রজীবনের উদাহরণও তুলে ধরেন, যেখানে বিশেষ সুবিধা বা ‘দুই বাটি’ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
নির্বাচন কমিশন ও বিএনপির কার্যকলাপেরও কড়া সমালোচনা করেন জামায়াতের নায়েবে আমির। তিনি বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ‘অবৈধ’ অভিহিত করে তার অপসারণের দাবি জানান।
এ ছাড়া ডা. তাহের অভিযোগ করেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করছে, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড এলাকার মধ্যে মারামারির সূচনা করতে পারে।
টিআই/এসএসএইচ