বিএনপির প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ শুরু

সিলেট থেকে দলীয় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে বিএনপি। এই উপলক্ষ্যে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে শুরু হয়েছে দলটির নির্বাচনী প্রথম সমাবেশ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা ১০টা ৫৪ মিনিটে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সিলেটের আম্বারখানা মসজিদের ঈমাম কোরআন তিলাওয়াত করেন।
নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি এখনও উপস্থিত হননি (এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত)। তবে বিশেষ অতিথি হিসেবে এরইমধ্যে মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় সভাপতিত্ব করবেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী।
বেলা ১১টার কয়েক মিনিট আগে আনুষ্ঠানিক সমাবেশে কার্যক্রম শুরু হলেও ভোরের আলো ফোটার আগেই সমাবেশস্থল বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
জানা গেছে, তারেক রহমান সমাবেশ স্থল থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে হোটেল গ্র্যান্ড সিলেটে স্থানীয় তরুণ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। সেই অনুষ্ঠান শেষ করে সমাবেশে আসবেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এই প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে নির্বাচনী সমাবেশ করতে এসেছেন তারেক রহমান। বুধবার রাতে বিমানে করে সিলেটে এসে সরাসরি হযরত শাহজালাল ও শাহপরান (র.) এর মাজার জিয়ারত করে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে বেশ কিছুটা সময় অবস্থান করে হোটেলে ফিরে রাত্রিযাপন করেন।
নির্বাচনী প্রচারের বাইরেও দুই দশকের বেশি সময় পর তারেক রহমানের এই আগমনকে ঘিরে সিলেটের দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভাষ্য-তারেক রহমানের কাছে সিলেট কেবল একটি সাংগঠনিক অঞ্চল নয়। এর সঙ্গে নানা কারণ অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে। প্রথমত বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে সিলেট থেকেই প্রচারাভিযান শুরু করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে সব নির্বাচনে সিলেট থেকে প্রচারাভিযান শুরু করেছেন খালেদা জিয়াও। এরই ধারাবাহিকতায় সেই সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করতে এসেছেন তারেক রহমান। অন্যদিকে সিলেট তার শ্বশুরবাড়িও। একটি দলের নেতার বাইরেও সিলেটের মানুষের কাছে তার জন্য অন্য এক আবেগ কাজ করে।
বৃহস্পতিবার সমাবেশস্থল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভোরের আলো না ফুটতেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় সভাস্থল। দলীয় নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে রেখেছেন সভাস্থল। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মিছিল। ব্যানার, লাল-সবুজ পতাকা আর পোস্টারে ছেয়ে গেছে সড়কের দুই পাশ। মাইকে ভেসে আসছে দলীয় গান ও স্লোগান। অনেকেই মাথায় দলীয় ক্যাপ, ব্যাজ পরে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
হোটেল, রেস্তোরাঁগুলোতেও বাড়তি ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আগত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আগমনে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করার মতো। চা–এর দোকানেও জমে উঠেছে আলোচনা—তারেক রহমানের বক্তব্য, আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে। ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের দিকে তাকিয়ে পুরো শহর অপেক্ষা করছে, তারেক রহমান তাদের জন্য কি প্রতিশ্রুতি দেন।
সমাবেশের স্থলে বিএনপি নেতাকর্মী সমর্থকদের বাইরে ও আসছেন জোটের সমর্থকেরা। তারাও স্লোগানে স্লোগানে স্বাগত জানাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের স্থানীয় নেতা রায়হান উদ্দিন বললেন, সবচেয়ে বড় কথা তারেক রহমান...উনি আমাদের সিলেটের জামাই। তার আগমনে আমরা ভীষণভাবে উচ্ছ্বসিত।
সিলেট-৫ আসন থেকে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক।
সফর সূচির তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের জনসভা শেষ করে ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করবেন তারেক রহমান। পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর আইনপুরে খেলার মাঠে, হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়ামে, নরসিংদী পৌর পার্ক সংলগ্ন এলাকায়, নারায়ণগঞ্জেও নির্বাচনী সমাবেশে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গুলশানে অবস্থিত নিজ বাসভবনে তার ফেরার কথা রয়েছে।
সর্বশেষ ২০০৪ সালে বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে সিলেটে এসেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ দেড় যুগ যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর সিলেট হয়ে দেশে ফিরলেও পুণ্যভূমিতে পা পড়েনি বিএনপির এই শীর্ষ নেতার। এবার সেই আক্ষেপ পূর্ণ হয়েছে সিলেটবাসীর।
এএইচআর/জেডএস