সারাদেশে সহিংসতা-আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে, ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জামায়াতের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। গতকাল ও আজকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বাহিনীর। সামনের দিনগুলোতে নির্বাচনী সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে ব্যবস্থা ও জনগণকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে দলটি, যাতে ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে দেশবাসী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ দাবি করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দলের নেতারা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। বিশেষ করে মাইকিংয়ে সময়ের বিষয় আছে। বিভিন্ন জায়গাতে তারা যে সমস্ত প্রচার সামগ্রীগুলো লাগিয়েছেন আচরণবিধিতে এগুলো নিষেধ করা আছে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমরা এই সমস্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা মনে করি স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রত্যেকেই আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচার অভিযান চালানো উচিত। এমন কোনো ধরনের আচরণ করা ঠিক না যেটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে সমস্যাগ্রস্ত করে।
প্রশাসন এবং অন্য যারা আছে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যারা জড়িত আছেন সবাই যাতে তাদের দায়িত্বটা নিরপেক্ষ এবং সুন্দরভাবে পালন করেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডটা নিশ্চিত করা প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। যাতে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতীয় উপহার আমরা দিতে পারি।
তিনি বলেন, সব ধরনের হত্যা, সন্ত্রাস ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা আগেও বলেছি। যারা শহীদ হয়েছেন বিশেষ করে শহীদ হাদীসহ হত্যাসহ সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন, অনেকে আহত হয়েছেন।
তিনি নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বাহিনীর দায়িত্বের কথা স্মরণ করে দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব হচ্ছে তাদের। আমরা আশা করবো সামনের দিনগুলোতে এই সমস্ত বিষয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জনগণকে দেবেন। যাতে ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে দেশবাসী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রচার বিভাগে থেকে জানানো হয়, নরসিংদী-৪ (মনোহরদী) এর সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহায়মেন আল জিহানের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতসহ ১০ দলের নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং নির্বাচনী কর্মীদেরকে জোর করে বিএনপির প্রচার মিছিলে যেতে বাধ্য করছে। গাজীপুর-৫ আসনে পিভিসি বিলবোর্ড, ব্যানার বড় সাইজের করছে, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জামায়াতের নারী কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে, হামলা করছে এবং যানবাহন ভাঙচুর করছে ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। নারী কর্মীদের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছে এবং ‘চোর ধরা পড়েছে’ বলে মব তৈরি করছে।
হবিগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় প্রধান ছাড়া অন্যান্য প্রয়াত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ছবি ব্যবহার করছে, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াতের ফেস্টুন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর-১ আসনের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নে জামায়াতের নারী কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর-৩ (ভবানীগঞ্জ) ড. রেজাউল করিমের নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী বিতরণ ও ফেস্টুন লাগানোর সময় স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাধা প্রদান করেন এবং জামায়াতের কর্মীদের আহত করেন।
কুমিল্লা-৯ আসনের মৈশাতুয়া ইউনিয়নের শমসেরপুর গ্রামে গণসংযোগ চলাকালে জামায়াতকর্মী খলিলুর রহমান লিটনকে আহত করা হয়েছে।
আট জেলা সফর শেষে শনিবারই ঢাকা ফিরবেন জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী সফরের ফিরিস্তি তুলে ধরে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচনী প্রচার অভিযান প্রত্যেকটি দলই আরম্ভ করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ঢাকা-১৫ আসন যেখান থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। সেখানে আমরা গণসংযোগ করেছি ও বিশাল সভা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকাতে আমাদের অন্যান্য যারা প্রার্থী আছেন তারা সবাই গতকালকেই প্রচার অভিযান আরম্ভ করেছেন।
এই ধারাবাহিকতায় আজকে থেকে জামায়াত আমির উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলা সফর করছেন। তিনি আজকে ঢাকা থেকে প্রথম পঞ্চগড়ে গিয়ে সমাবেশ করেছেন। উত্তরবঙ্গের প্রথম জেলা হিসেবে আজকে সকাল ১১টায় পৌঁছে জনসভায় বক্তৃতা দিয়েছেন। সেখান থেকে তিনি দিনাজপুর জেলায় জনসভা করেছেন। পরে ঠাকুরগাঁয়ে জনসভা করে রংপুরে তিনি এসে পৌঁছেছেন। রংপুরের জনসভায় বক্তব্য রেখে আজকে রংপুরে তিনি অবস্থান করবেন।
আগামীকাল শনিবার তিনি জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ বীর আবু সাঈদের বাড়িতে যাবেন তার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সেখানে সাক্ষাৎ করবেন এবং তার কবর জিয়ারত করবেন, সবাইকে নিয়ে দোয়া করে তিনি সেখান থেকে গাইবান্ধায় আসবেন। গাইবান্ধায় জনসভা করে পলাশবাড়িতে আরেকটা জনসভা হবে সেখান থেকে তিনি বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। বগুড়াতে কয়েকটি জনসভা করবেন। বগুড়া শহরে করবেন। বগুড়ার কয়েকটা আসনে জনসভা করবেন। সেখান থেকে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলাতে যাবেন। সেখানে তিনি কয়েকটি জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন। এরপর পাবনায় যাবেন। পাবনাতে জনসভা করে তিনি কালকেই ঢাকায় এসে পৌঁছবেন।
এই দুইদিনের (২৩ এবং ২৪ জানুয়ারি) সফরে তিনি মোট ৮টি জেলা এবং অনেকগুলো জনসভা এবং মতবিনিময় সভাসহ তিনি গণসংযোগ গ্রহণ করবেন। আমাদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ স্ব স্ব এলাকায় সেখানে জনসভা পথসভা উঠান বৈঠকসহ এ সমস্ত কার্যক্রম তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১২ আসনের জামায়াত কর্তৃক মনোনীত এবং ১০ দল কর্তৃক সমর্থিত সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় অফিস সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল সাত্তার এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া টিমের সদস্য জাহিদুর রহমান।
জেইউ/এমএন