জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোটার এনআইডি, বিকাশ নম্বর চাওয়ার খবর ভুয়া

নির্বাচনী প্রচারণায় রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্যের গুণগত মান ও সত্যনিষ্ঠা পরিমাপ করার সুযোগ জনগণ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম। তিনি বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোটারদের কাছ থেকে এনআইডি কার্ড বা বিকাশ নম্বর চাওয়ার যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে দলটির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এটিএম মা’ছুম এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনী জোটে শরিক হওয়ার ঘোষণা দেয়।
মাওলানা মা’ছুম বলেন, “আমরা ভোটারদের এনআইডি বা টেলিফোন নম্বর সংগ্রহ করছি না। এগুলো ভুয়া খবর ছড়িয়ে সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি এবং নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এমনটা কামনা করি না।”
বিগত ১৬ বছরের শাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত একটি স্বৈরাচারী সরকার জনগণের ওপর জেঁকে বসেছিল। ওই সময়ে মানুষ মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বিচারহীনতা, অর্থ পাচার ও খুনের মাধ্যমে দেশকে ‘জুলুমের আখড়া’ বানানো হয়েছিল। ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ সেই অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করেই এই নির্বাচনী ঐক্য গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১০-দলীয় জোট এখন ১১ দলে উন্নীত হলো। এটি কেবল ভোটের জন্য নয়, বরং ৫ আগস্টের ঐক্যবদ্ধ চেতনাকে লালন করে একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার জোট।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ও দলটির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন প্রচারণার বিষয়ে জামায়াত নেতা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। কিন্তু কেবল জামায়াতের কথা এলেই সেটাকে ভিন্নভাবে চিহ্নিত করা হয়, যার পেছনে ‘দুরভিসন্ধি’ আছে বলে তিনি মনে করেন।
প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রকাশ্যে জনসভায় জামায়াত সম্পর্কে অবাস্তব ও ভিত্তিহীন কথা বলছেন। এগুলো গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী এবং নিছক মিথ্যাচার। এর মাধ্যমে নেতাদের রাজনৈতিক ওজন কতটুকু, তা জনগণ পরিমাপ করার সুযোগ পাচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল, তোফাজ্জল হোসেন মিয়াসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।
জেইউ/বিআরইউ