চানখারপুল মামলার রায় প্রত্যাখ্যান জুলাই ঐক্যের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম স্থান চানখারপুলে ছয়জন হত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে জুলাই স্পিরিট ধারণকারী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যজোট ‘জুলাই ঐক্য’। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক এবং গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দল ও ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের গেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান চানখারপুলে ছয়জন হত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা ইমরুলকে ছয় বছর এবং শাহবাগ থানার সাবেক ওসি এরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইসরাফিল ফরাজী বলেন, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি এই রায় পক্ষপাতদুষ্ট। যারা দেশে অনুপস্থিত, মূলত তাদেরই সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আর যারা কারাবন্দি, তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এ কারণে জুলাই ঐক্য এই রায় প্রত্যাখ্যান করছে এবং ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কাছে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করা হয়। ইসরাফিল ফরাজী বলেন, রাষ্ট্রের বিদ্যমান আইন উপেক্ষা করে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হিসেবে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপি প্রার্থী হতে পারছেন, যদিও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ বিভিন্ন আইনে তাদের প্রার্থী হওয়ার ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তিনি বলেন, যারা রাষ্ট্রের টাকা লুটপাট করেছে, তারাই আবার জনগণের ভোট চাইছে– এটি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নির্বাচন কমিশন মুখে ইনসাফের কথা বললেও বাস্তবে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মন জয়ে ব্যস্ত।
দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রসঙ্গ তুলে ইসরাফিল ফরাজী অভিযোগ করেন, যারা দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদেরও বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
জুলাই ঐক্যের অভিযোগ, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত এবং সংস্কারের বিরোধিতা করা জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিতে তারা গত দুই মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এসময় হাইকোর্টে রিট, নির্বাচন অভিমুখী পদযাত্রা ও স্মারকলিপি দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ইসরাফিল ফরাজী বলেন, নির্বাচন কমিশন গণহত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। আমরা হুঁশিয়ার করে বলছি– অবিলম্বে জাতীয় পার্টি, এনডিএফসহ ১৪ দল ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রজনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তার দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজধানীতে প্রকাশ্যে খুন হয়েছেন জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। এ ঘটনায় এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলেও দাবি করা হয়।
এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। জুলাই ঐক্যের দাবি, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে এবং নির্বাচনে সব পক্ষের জন্য সমান মাঠ নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির অন্যতম সংগঠক প্লাবন তারেক। তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক, জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে ‘মার্চ টু ইলেকশন কমিশন’ কর্মসূচি পালন করবে জুলাই ঐক্য।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক জয়নাল আবেদিন শিশির ও মুন্সি বুরহান মাহমুদ।
এসএআর/এসএসএইচ