অভিযোগ সত্ত্বেও ইসি-সরকারের নীরবতা জাতির সঙ্গে বেইমানি : ডা. তাহের

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও হামলাসহ নানা অভিযোগ সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের নীরবতাকে জাতির সঙ্গে ‘বেইমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এমন দুর্বলতা ও নির্লিপ্ততা অনাকাঙ্ক্ষিত; এর জন্য সংশ্লিষ্টদের জনতার কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে ডা. তাহের বলেন, ‘সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নীরবতা জাতির প্রতি বেইমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা। তারা জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবেন। কিন্তু আমরা সেখানে ব্যাপক দুর্বলতা দেখছি।’
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের অনেক ডিসি ও এসপি প্রকাশ্যে পক্ষপাতিত্ব করছেন। বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কমিশন তেমন কর্ণপাত করছে না। তার মতে, হয় সরকারের সুষ্ঠু নির্বাচন করার ক্ষমতা নেই, অথবা তারা ইচ্ছাকৃতভাবে একপক্ষীয় হয়ে পড়েছে, যা দেশকে জটিল পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে।
সারাদেশে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘কূটকৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের রাজনীতিতে সামনের সারিতে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। কিন্তু এভাবে হামলা হতে থাকলে নারীরা ভীত হবে এবং নির্বাচনে প্রার্থী পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে। নারী প্রগতির কথা বললেও মূলত তাদের পিছিয়ে দেওয়ার জন্যই এই সহিংসতা চালানো হচ্ছে।’
প্রচারণায় ধর্মীয় বয়ান ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল। নিজেদের আদর্শের কথা বলা কোনো ‘ধর্মীয় মোড়ক’ নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কমিউনিস্ট পার্টি বা জাতীয়তাবাদী দল যদি তাদের আদর্শের কথা বলে, তবে কি তা অপরাধ হবে? আমরা ধর্মীয় দল, আমাদের লুকানোর কিছু নেই। বরং যারা নির্বাচনের আগে নামাজ পড়ে বা ধর্ম নিয়ে কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়ায়, তারাই মূলত অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতায় আসার চেষ্টা সংক্রান্ত বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে ডা. তাহের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো চুক্তির প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ্যে দেখানো হোক। কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের চুক্তি নেই। জামায়াতই একমাত্র দল, যাদের ঠিকানা অতীতে, বর্তমানে ও ভবিষ্যতে সবসময় বাংলাদেশ।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন– জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
জেইউ/বিআরইউ