নির্বাচনের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র হবে : খোমেনী ইহসান

জুলাই বিপ্লব কোনো সাময়িক আন্দোলন নয় এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে এটি শেষ হয়ে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র ও ব্যাপক আকার ধারণ করবে।
খোমেনী ইহসান উল্লেখ করেন, চব্বিশের এই অভ্যুত্থান নতুন স্তরে প্রবেশ করবে এবং নির্বাচনের পর ফ্যাসিবাদী কাঠামো নিষিদ্ধ ও নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবিতে নতুন করে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে খোমেনী ইহসান নিজেকে জুলাই বিপ্লবের নেতা বা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দাবি না করে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন সাধারণ কর্মী। ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে আমি সক্রিয় ছিলাম।’
তিনি বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের সূত্রপাত কোটা বৈষম্য থেকে হলেও এর শিকড় অনেক গভীরে। আন্দোলন দমনে যে গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার মাধ্যমেই তৎকালীন সরকার সংকটে পতিত হয়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এই সরকার প্রকৃত অর্থে নিরপেক্ষ নয় এবং রাজনৈতিক দল ও ফ্যাসিবাদী আমলাতন্ত্রের প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। হত্যা, গুম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিচারে সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়েও তিনি সমালোচনা করেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বর্তমান বাস্তবতায় ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে উল্লেখ করে খোমেনী ইহসান বলেন, নির্বাচন কোনোভাবেই জুলাই বিপ্লবের বিকল্প নয়। নির্বাচনের পর গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে আন্দোলন চলবে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী দিনের কর্মসূচি হিসেবে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা, গণসমাবেশ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
এমএইচএন/বিআরইউ