আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে নিতে চেয়েছিল তৎকালীন সরকার

আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে নিতে চেয়েছিল তৎকালীন সরকার। এজন্য হত্যাকারীরা নিজেদের রক্ষার স্বার্থে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছিলেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ বিনষ্ট করতে নিজেদের মতো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছিলেন তারা।
এ ছাড়া, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বারবার পরিবর্তন করতে চিকিৎসককে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মৃত্যুর সঠিক কারণ জাতির সামনে তুলে ধরেছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রাজিব। মৃত্যুর কারণ পরিবর্তন করেননি তিনি। ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্যও দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন প্রসিকিউটর।
প্রসিকিউটর মিজানুল বলেন, এ মামলায় আমরা ২৫ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছি। সব আসামির বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়েছি। রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল। আশা করছি খুব শিগ্গিরই এ মামলার রায় পাব।
আসামিপক্ষের দাবি অনুযায়ী, আবু সাঈদের গেঞ্জি বা টি-শার্টে গুলির বা ছিদ্রের চিহ্ন ছিল না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি। আপনাদের জ্ঞাতার্থে এটুকু বলতে পারি যে, যে আলামত সংগ্রহ বা জব্দ করা হয়েছিল, এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অর্থাৎ যে মামলায় আবু সাঈদদেরকে আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু আবু সাঈদকে হত্যা করা হয়েছে সেই মামলায় নয়। মূলত তাকে আক্রমণকারী চিহ্নিত করতে যে মামলা করা হয়েছিল, সেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরকারের অনুগত হয়ে একটা অংশ জব্দ করেছিলেন। এটা পেছনের অংশ হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বুকে ও পেটে গুলি লেগেছিল। পেছনের অংশ জব্দ করার উদ্দেশ্যই ছিল মামলাকে প্রভাবিত করা। এ ছাড়া, মাথার আঘাতে আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছিল বলে প্রচার করেছিল তৎকালীন স্বৈরাচার সরকার। আর সেই কথাকে প্রমাণ করতে এটা করা হয়েছে। আমরা এই তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেব।
যুক্তিতর্কে আসামিপক্ষ বলেছিল মাথায় আঘাতে আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে; তা কীভাবে খণ্ডন করেছেন আপনারা— জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, এটা আমাদের ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন ছিল না। কারণ, চিকিৎসকই নিজের জবানবন্দিতে ব্যাখ্যা করেছেন যে তার (আবু সাঈদ) মাথায় আঘাত করেছেন এ মামলার অন্যতম আসামি সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান। সেই ভিডিও আমরা উপস্থাপন করেছি। আবু সাঈদকে হত্যার আগে লাঠিপেটা করেছিলেন ওই আসামি। তাকে গুলি করার ভিডিও শুধু আমরা নই, সারা বিশ্ববাসী দেখেছে। অতএব গুলির কারণেই আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে। যা সাক্ষ্য দিয়ে চিকিৎসক নিজেই নিশ্চিত করেছেন। তবে, তার শরীরে ওই আঘাতটাও ছিল। কিন্তু হত্যা করা হয়েছে গুলিতে।
চানখারপুল মামলার রায় এখানে প্রভাব পড়বে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল বিভাগে আপিল করব। এটা চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন। কাজেই বিষয়টি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। মন্তব্য করা যৌক্তিক নয়। আমরা আমাদের বক্তব্য আপিল বিভাগে তুলে ধরব। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে ওই রায়ের কোনো প্রভাব এ মামলায় পড়বে না।
এমআরআর/এমজে