রক্তচক্ষু-ভয়ভীতি নির্যাতনের বিরুদ্ধে মা-বোনেরা রুখে দাঁড়ানো শিখেছে

রক্তচক্ষু-ভয়ভীতি নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের মা-বোনেরা এখন রুখে দাঁড়ানো শিখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন।
তিনি বলেছেন, আমাদের মা-বোনেরাও রুখে দাঁড়ানো শিখেছে। যারা ইভটিজিং করতে আসে তাদেরকে দাঁত ভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসেবে আজকের এই মিরপুরে আমাদের মা-বোনদের এই সমাবেশ।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের মহিলা সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোবারক হোসাইন বলেন, “আগামী নির্বাচনে সারা বাংলাদেশে মা-বোনদের উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ততা যখন সুস্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল— তখন বোঝা যাচ্ছিল জামায়াতে ইসলামীর আগামী নির্বাচনের ফলাফল এই মা-বোনেরাই নির্ধারণ করে দেবেন, তখনই জালিম গোষ্ঠী আমাদের মা-বোনদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও কাজে বাধা প্রদান শুরু করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জনসমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন— আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের ওপর যদি কেউ হামলা করে, তাদের দিকে যদি কেউ কুনজর দেয় বা কোনো ধরনের অসদাচরণ করে, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা আশা করি কোনো রক্তচক্ষু, ভয়ভীতি, হুমকি-ধমকি বা নির্যাতন আমাদের কাজ বন্ধ করতে পারবে না। আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ (কন্টাক্ট) করব, সাধারণ মানুষের কাছে যাব এবং মা-বোনদের কাছে যাব। আগামী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ইনশাআল্লাহ আমরা ঘরে ফিরব।”
তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আমাদের আমির ডা. শফিকুর রহমান আগামীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হবেন। এই এলাকার মানুষ তথা মা-বোনেরা শুধু একজন এমপিকে ভোট দেবেন না, তারা আগামীর প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দেবেন।”
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “মা ও বোনেরা, আপনারা হচ্ছেন খাদিজাতুল কুবরার (রা.) উত্তরসূরি। আপনারা কখনো জ্ঞানসমৃদ্ধ সমাজ গঠনে, কখনো সঠিক পরামর্শ দিয়ে, আবার কখনো জিহাদের ময়দানে ভূমিকা রেখেছেন। ইসলামের ইতিহাস থেকে আজ অবধি সমাজ, রাষ্ট্র ও ইসলামী মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনাদের অবদান ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আমরা দেখেছি যখন আমাদের ভাইয়েরা আক্রান্ত হয়েছিল, তখন বোনেরা ঢাল হয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। মায়েরা বাসা থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে এসে সন্তানদের খাইয়ে দিয়েছেন। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ফ্যাসিবাদ হাসিনার বিরুদ্ধে শক্ত ভূমিকা রেখেছেন।”
জেইউ/এমজে