একসময় যারা মুখ লুকিয়ে থাকতেন, তারা বাধ্য হয়েছেন ‘হ্যাঁ’ বলতে

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ যারা চায় না, তারা পুরোনো বন্দোবস্তই চায়। একসময় মুখ লুকিয়ে যারা থাকতেন, কোনো কথা বলতেন না, এখন তারা বাধ্য হয়েছেন ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলতে। কিন্তু আমরা চাই, মুখের কথাই যেন তাদের বুকের কথা হয়। ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে যারা অবস্থান নেবেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ ধরে নেবে—তারা আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের পদুয়া এ সি এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের যুবসমাজ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশ্ব দরবারে মর্যাদার সঙ্গে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ সমাজের প্রথম ভোটটি যেন ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষেই হয়—সে আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি ১২ তারিখ তরুণ সমাজকে দাঁড়িয়ে থেকে জয় নিয়ে নতুন বাংলাদেশ বুঝে নেওয়ার কথাও বলেন।
তিনি বলেন, আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সবার বিজয় হবে। আমিও তার বাইরে থাকব না। কিন্তু দল, পরিবার বা গোষ্ঠীর বিজয় হলে পরে জাতির ওপর তাণ্ডব চালানো হয়। ওই বিজয়কে আমি ধিক্কার জানাই। এমন বিজয় আমাদের প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘যুবকেরা কখনো বলেনি—আমাদের বেকার ভাতা দাও। তারা বলেছে, আমাদের হাতে কাজ দাও। আমরা আমাদের দেশ ও জাতিকে গড়তে চাই। এ জন্য যুবসমাজের হাতে আমরা অপমানজনক বেকার ভাতা তুলে দেব না; তুলে দেব সম্মানের কাজ। এখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই একসঙ্গে কাজ করবে। এখানে দল বা ধর্ম নয়, গুরুত্ব পাবে দক্ষতা ও দেশপ্রেম।’ এই চেতনা নিয়েই একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের নায়েবে আমির আনম শামশুল ইসলাম এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার হামিদ হোসেন আজাদ।
এমআর/জেডএস