মানবতার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইনসানিয়াত বিপ্লবের ৪৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার

সব ধর্মের ও মতপথের মানুষের সমান নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে একটি মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ৪৯ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থীরা বর্তমানে ৪২টি আসনে ‘আপেল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইশতেহার ঘোষণাকালে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, একটি আধুনিক উন্নত সভ্য রাষ্ট্রকে শুধু তার নিজস্ব নাগরিক নয়, বরং রাষ্ট্রের বাইরের প্রতিটি মানুষের জন্য সমান নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত আধুনিক রাষ্ট্র হতে হলে সেটিকে অবশ্যই মানবিক সমাজ ও মানবতার রাষ্ট্রে পরিণত হতে হবে।
৪৯ দফা ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো–
১. রাষ্ট্র হবে সাংবিধানিকভাবে সব ধর্মের ও সব মতপথের মানুষের সমান মালিকানা ও সমান নাগরিকত্ব ভিত্তিক সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র।
২. রাষ্ট্র একক ধর্ম, একক জাতি, একক মতবাদ বা একক দলভিত্তিক হতে পারবে না; এটি অলঙ্ঘনীয় সাংবিধানিক মৌলিক বিধান হিসেবে কার্যকর থাকবে।
৩. রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সব অপশক্তির জবরদখল থেকে জীবনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হবে।
৪. প্রত্যেক মানুষ তার জীবন, বিশ্বাস, ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে স্বাধীনভাবে চলবেন; রাষ্ট্র বা অন্য কেউ কারও ওপর ভিন্ন কিছু চাপিয়ে দিতে পারবে না।
৫. ধর্মের নামে রাজনৈতিক ধোঁকা, উগ্রবাদ ও ধর্মের অপব্যবহার রোধে এবং ধর্মের বিকৃতি ঠেকাতে একক ধর্মের নামে রাষ্ট্র করার চক্রান্ত সাংবিধানিকভাবে বন্ধ করা হবে।
৬. শপথ নেওয়ার পর সরকারকে সব মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বৈষম্যহীন প্রতিনিধিত্ব করতে হবে; রাষ্ট্রীয় কোনো কিছু দলীয়করণ করা যাবে না।
৭. প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের নির্বাচিত নন, এমন কেউ সরকারপ্রধান হতে পারবেন না। নির্বাচন হবে রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে।
৮. মোবাইল ফোনের ‘ভোটিং অ্যাপের’ মাধ্যমে ভোটার আইডির নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আঙুলের ছাপের ভিত্তিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।
৯. ধর্ম, ভাষা, গোত্র বা লিঙ্গভেদে রাষ্ট্র কোনো বৈষম্য করবে না; রাষ্ট্র হবে মানবিক সাম্যের রক্ষক।
১০. প্রতিটি নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ১১. প্রবাসীদের সুরক্ষায় দূতাবাসগুলো দায়িত্বশীল হবে; কোনো প্রবাসী বিদেশে মারা গেলে রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনা হবে এবং বিমানবন্দরে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা হবে।
১২. আবাসিক পারিবারিক গৃহ করমুক্ত করা হবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাপের নিচের জমিও খাজনামুক্ত থাকবে।
১৩. জীবন রক্ষাকারী সব ওষুধ ও উপকরণ শুল্কমুক্ত করা হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সার্বক্ষণিক সরকারি হাসপাতাল থাকবে।
১৪. গ্রাম্য বিচার বা ফতোয়াবাজির নামে কোনো প্রকার জুলুম, নির্যাতন বা টর্চার সেল বন্ধ করা হবে।
১৫. উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্যের ভেজাল ও বিষক্রিয়া কঠোরভাবে রোধ করা হবে।
১৬. মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং ভর্তি বা পরীক্ষা ফি বাবদ অন্যায্য ব্যবসা বন্ধ করা হবে।
১৭. মানবিক ও ন্যায়পরায়ণ সমাজ গড়তে স্রষ্টা ও তার রাসুলের ভালোবাসা ভিত্তিক মানবিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।
১৮. কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর মতবাদ যেন কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়, তা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।
১৯. সবার জীবন নিরাপদ ও স্বাধীন থাকবে; তবে স্বাধীনতার অপব্যবহার করে কোনো নবী-রাসুল বা ধর্মপ্রবর্তকদের অবমাননা করা যাবে না।
২০. রাজনৈতিক দল হতে হলে সেটিকে সব মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল হতে হবে; একক ধর্ম বা বর্ণবাদভিত্তিক দল রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে পারবে না।
২১. প্রতিটি মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।
২২. জনগণই হবে রাষ্ট্রের মালিক এবং সরকার তাদের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহি থাকবে।
২৩. মানুষকে মানবিক ও ন্যায়বান হিসেবে গড়ে তোলাই হবে রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। ২৪. আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে মানবিক ভূমিকা পালন করবে।
২৫. খাদ্য ও ওষুধ উৎপাদনে রাষ্ট্রকে আমদানিমুক্ত ও স্বনির্ভর করা হবে।
২৬. সড়ক, জল ও আকাশপথ শতভাগ নিরাপদ করা হবে এবং দুর্ঘটনার হার শূন্যে নামিয়ে আনা হবে।
২৭. মানবাধিকার হরণকারী রাষ্ট্র ছাড়া অন্য সব রাষ্ট্রের সঙ্গে মর্যাদা ও স্বাধীনতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক রাখা হবে।
২৮. বিশ্ব মানবতার যেকোনো দুর্যোগে রাষ্ট্র বিপন্ন মানুষের পাশে আশ্রয় হিসেবে দাঁড়াবে।
২৯. প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের সংকটে রাষ্ট্র ও সরকারকে পাশে থাকতে হবে। ৩০. জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে রাষ্ট্রকে সারা বিশ্বের জন্য আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
৩১. সব নাগরিকের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
৩২. উপার্জনহীন বিধবা, বয়োবৃদ্ধ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সার্বিক দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।
৩৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও শিল্প-কারখানাকে দলীয় রাজনীতির জবরদখলমুক্ত রাখা হবে।
৩৪. রাষ্ট্রীয় ও প্রাকৃতিক সম্পদে সব মানুষের সমান মালিকানা নিশ্চিত করে সম্পদের গণতন্ত্রায়ন করা হবে।
৩৫. জীবন ও অধিকার হরণকারী সব কালাকানুন বাতিল করে রাষ্ট্রকে মানবতার আশ্রয় হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
৩৬. নারী ও শিশুদের ওপর খুন-ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিশেষ আদালত গঠন করে দ্রুত কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
৩৭. লিঙ্গগত বৈষম্য দূর করে নারীদের সমান মর্যাদা, শিক্ষা ও স্বাবলম্বী জীবন সুনিশ্চিত করা হবে।
৩৮. সব বিনিয়োগ হয়রানিমুক্ত রাখা হবে এবং পাচার হওয়া অর্থ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৯. মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ সব উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার অংশ প্রদান করা হবে।
৪০. সব ছিন্নমূল পরিবারকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা হবে।
৪১. রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দুর্নীতি সম্পূর্ণ রোধ করা হবে। ৪২. কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও উপকরণ এবং সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে; নিশ্চিত করা হবে পণ্যের ন্যায্যমূল্য।
৪৩. মিথ্যা মামলা ও জেল-রিমান্ডে নির্যাতন বন্ধ করা হবে। ৪৪. বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে; তবে অন্যের মর্যাদা হানি করা যাবে না।
৪৫. জনজীবন বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সমাবেশ করা যাবে না।৪৬. লাভজনক শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের নিট লাভের একটি অংশ প্রদান করতে হবে।
৪৭. সব প্রকার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস কঠোরভাবে দমন করে নিরাপদ ব্যবসা-বাণিজ্য নিশ্চিত করা হবে।
৪৮. পরিবেশ রক্ষা ও দূষণমুক্ত দেশ গঠনকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে নেওয়া হবে।
৪৯. শিশুদের শিক্ষা হবে আনন্দময়, চাপমুক্ত ও ভয়ভীতিহীন।
এমএইচডি/বিআরইউ