সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইসিকে আরও কঠোর হতে হবে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার ওপর দেশের টেকসই গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়নের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। এ কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, সহিংসতা, নারীর প্রতি বিদ্বেষ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘সহিংসতামুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণ : নির্বাচন কমিশন ও সরকারের আবশ্যিক করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এ কথা বলেন বক্তারা। আলোচনায় সারাদেশের মাঠপর্যায়ের প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজ্জামান রুমান।
আলোচনায় সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনগুলোতে অতীতে ক্ষমতাসীনরাই বরাবর বিজয়ী হয়েছে। যেহেতু এবার নির্বাচন আয়োজন করছে অন্তর্বর্তী সরকার, তাই এই নির্বাচন ভিন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে তা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।
ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান বলেন, দেশে এখনো সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে এবং আজ থেকেই নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা নিতে হবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের জনগণ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু গত দুই দশকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা বলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু না হলে দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন ও টেকসই উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অথচ বর্তমানে সারাদেশে আচরণবিধির নির্বিচার লঙ্ঘন, কালো টাকার ব্যবহার, নারীদের ওপর সহিংস হামলা ও বুলিং, প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা এবং রক্তক্ষয়ী সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
বক্তারা আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নারী কর্মীরা হেনস্তার শিকার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। নারীদের ওপর শারীরিক হামলা, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণে বাধা প্রদান নারীর রাজনৈতিক অধিকার দমনেরই অপচেষ্টা।
তারা বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুদ্ধ রাখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এ জন্য কমিশনকে রাজনৈতিক আনুগত্য ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একইসঙ্গে মাঠ প্রশাসনের কোথাও কোথাও পক্ষপাতমূলক আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত। এসব ঘটনার লাগাম টানতে নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী জাতির আকাঙ্ক্ষা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সরকারের সাবেক সচিব ও ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. মো. শরিফুল আলম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. তৌফিক এম হক, প্রফেসর ড. ওয়ারেসুল করিম বুলবুল, সাবেক সচিব মো. আবদুল কাইয়ূম, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, আব্দুল মোতালেব সরকারসহ আরও অনেকে।
এমএইচএন/জেডএস