জাতীয় সরকারে না, শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবেই কাজ করবে জামায়াত

জাতীয় সরকারে যাবে না, সংসদে ও সংসদের বাইরে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে তার বসুন্ধরার বাসায় সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান চলে যাওয়ার পর তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
এর আগে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটে তারেক রহমান জামায়াত আমিরের বসুন্ধরা কার্যালয়ে পৌঁছান। রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে তিনি সেখান থেকে বের হন। তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে সামনে দুই দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি হন। এছাড়া পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিল।
তারেক রহমানের প্রস্থানের পর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, নির্বাচন পরবর্তীতে সরকারের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক সম্ভাব্য প্রধান বিরোধী দলের প্রধান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। একটা কার্টেসি ভিজিট। এটাকে আমরা ওয়েলকাম করি। আমি মনে করি এই ধরনের নিউ কালচার নিজেদের ভেতরে থাকাটা একটা গুণগত পরিবর্তন ও গুড বিগিনিং।
তিনি বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সংগ্রাম করেছি। সরকারও গঠন করেছি। আমরা ফ্যাসিবাদের পতন পরবর্তীতে দুটি দল এবার আলাদাভাবে নির্বাচন করেছি।
আগামী দিনগুলোকে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার এবং বিরোধী দল সমন্বিতভাবেই দেশের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করতে পারবো বলে আশা করছি। আমরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছি যে সবাই মিলে একসঙ্গেই একটি কনস্ট্রাক্টিভ ফিউচার আমরা গ্রহণ করতে পারবো। একটি নতুন বাংলাদেশ আমরা গঠন করতে পারবো।
নিজেদের ভেতরে মৌলিক কোনো ঝামেলা হলে আলোচনার ভিত্তিতে যাতে পজিটিভ একটা সমাধান আসতে পারে সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
বৈঠকে জামায়াত আমির কয়েকটি প্রায়রিটির বিষয়ে জোর দিয়ে কথা বলেছেন। প্রথম কথা হচ্ছে ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন, মানুষের সিকিউরিটি ইস্যুটা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে যেন সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে।
এরপরে ইকোনমির ব্যাপারে আমরা কথা বলেছি এবং বিশেষ করে জনগণের যে মৌলিক যে প্রয়োজনগুলো আছে খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা এসব বিবেকীয় অগ্রাধিকার পদ্ধতিতে যেন সরকার কাজে করে, সে ব্যাপারে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
তাহের বলেন, ইটস এ বিগিনিং। আমি মনে করি যে, একটা মৌলিক কোয়ালিটিটিভ চেঞ্জ যাতে আমরা এদেশে পেতে পারি, সে বিষয়েও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। পজিটিভ যেকোনো বিষয় আছে আমরা বলেছি আমরা কোঅপারেট করবো এবং জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং জনগণের কোন কল্যাণের বিপরীতে যদি সে রকম কোনো ভূমিকা থাকে আমরা অবশ্যই সে ব্যাপারে প্রতিবাদ এবং ভূমিকা নেওয়ার জন্য আমরাও প্রস্তুত আছি।
গত ১৬ বছরে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশটা ছিল না। সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে এক ধরনের শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। নির্বাচনের পরে আমরা দেখেছিলাম যে আপনাদের এই আপনারা অভিযোগ করছিলেন যে বিভিন্ন জায়গায় হামলা হচ্ছে হচ্ছে। এর মধ্যেই আজকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে দেখা কর। এটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতটুকু ইতিবাচক প্রভাব বয়ে নিয়ে আসবে। এটা তৃণমূলে কোন বার্তা যাচ্ছে কিনা যে সব ঝামেলাগুলো বন্ধ হবে? জানতে চাইলে জামায়াতের নায়েবে আমির তাহের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় কিছু অঘটন ঘটেছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। হামলার ঘটনা ঘটছে। আমরা এগুলো দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমরা মনে করি সরকারের ব্যাপারে অত্যন্ত সিরিয়াস ভূমিকা পালন করবে এবং দেশকে একটা পজিটিভ দিকে নিয়ে যাবে।
আপনারা বরাবরই বলছেন জুলাই শক্তিগুলো এক থাকতে হবে। তা নাহলে আওয়ামী লীগ বা ফ্যাসিবাদের একটা পসিবিলিটি আছে। সেক্ষেত্রে জাতীয় সরকার হবে অথবা এরকম কোনো পসিবিলিটি আছে কিনা? সে ব্যাপারে দুই নেতার মধ্যে কোনো কথা হয়েছে কিনা? একসঙ্গে থেকে যত চলা যায়। সেই আগের মতো বিরোধী দল না হয়ে, জবাবে তিনি বলেন, না, এখানে জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশগ্রহণ করবে না। জামায়াতে ইসলামী এখানে কনস্ট্রাক্টিভ শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে।
জেইউ/জেডএস