একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দায় এড়াতে পারে না রাষ্ট্র : এবি পার্টি

একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে রাষ্ট্র আজ নাগরিকের জানমাল রক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় নির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভা থেকে এ মন্তব্য করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করা হয়। নেতারা বলেন, একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে রাষ্ট্র নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রশাসনের দলীয়করণ এবং ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধীদের বেড়ে ওঠাই এ ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
এবি পার্টির নেতারা দাবি করেন, দেশে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে। অপরাধীরা ক্ষমতার আশ্রয়ে পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে। ফলে শিশু থেকে নারী— কেউই নিরাপদ নয়। এটি শুধু সামাজিক অবক্ষয় নয়; সরকারের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও নৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ।
নেতারা আরও বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি প্রমাণ করে সরকার জনগণের ন্যূনতম জীবনযাত্রার নিশ্চয়তাও দিতে পারছে না। বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
এবি পার্টি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাববে দলটি।
জনগণের অধিকার আদায়ে সারাদেশে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করা হবে। দেশের চলমান সংকট নিরসনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এবি পার্টি সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানায়।
সভায় চারটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা; প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা ও ব্যর্থতার তদন্ত করা; এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশসহ তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিচারের আওতায় আনা।
এমএইচএন/এমএন