মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক গড়তে পারলে সমাজ হবে মানবিক, বাড়বে উৎপাদন ক্ষমতা

কর্মক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিক সংঘাত হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের সমাজে মালিক-শ্রমিক সংঘাত বিভিন্ন জায়গায় আমরা দেখি। এটা হওয়া উচিত নয়। মালিক পক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে বলেই কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। আবার শ্রমিক আছে বলেই মালিক পক্ষের কল-কারখানার চাকা ঘুরে। সুতরাং একজন আরেকজনের আমরা সম্পূরক, পরিপূরক। তাই সংঘাত নয়, দরকার কোঅর্ডিনেশন।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২ মার্চ) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে একথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আ ন ম শামুসল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সঞ্চালায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে এ ইফতার মাহফিলে আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, আজকে সৌভাগ্যবান সব মানুষের প্রতিনিধিদের সামনে আছি। যাদের সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল বলেছেন, ঈমানদার ধনী ব্যক্তিদের তুলনায় দরিদ্র মুসলমানরা ৫০০ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। বিশাল সৌভাগ্যের ব্যাপার।
তিনি বলেন, আমি সবসময় সমাজে চলতে গিয়ে দুই শ্রেণির মানুষের সঙ্গে যখন মেশার সুযোগ পাই সানন্দে। এক শ্রেণি হচ্ছে শিশু, তারা নিষ্পাপ ওদের সঙ্গে হাত মেলালে মনে হয় যেন গুনাহ ঝরছে; আরেক শ্রেণির মানুষ যারা ঘাম জরিয়ে হালাল রুজি করেন তারা। আমি কোথাও গিয়ে যদি কোনো শ্রমিককে পাই, দুই চারজন হলেও একটু ঝাপটে ধরার চেষ্টা করি। আমি তাদের সঙ্গে চেষ্টা করি বুকটা মোয়ানাকা করার, মেলানোর। আমি প্রত্যাশা করি তার এক ফোটা গাম হলেও যেন আমার গায়ে লাগে। কারণ ওই ঘামটা হলো হালাল রুজির ঘাম। আমার কাছে ওইটা ঘামের দুর্গন্ধ নয়। আমার কাছে এটা আতরের সুগন্ধ।
তিনি বলেন, সমাজের যত স্তরে শ্রম বিনিয়োগের জায়গা আছে সব জায়গায় যদি আমরা মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্কটা গড়ে তুলতে পারি আমাদের সমাজটা একটা মানবিক সমাজে পরিণত হবে। আমাদের শক্তি, উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে।
তিনি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের কাজ শেষ হয়নি। এই নির্বাচনের আগে পরে আমি বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, আমি তাদের চোখে মুখে মুক্তির একটা আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করেছি।
তিনি বলেন, আমরা ওই সমাজটা পাল্টাতে চাই। আমরা একটা কেয়ারিং সোসাইটি একটা, দরদী সমাজ গড়তে। যেখানে প্রত্যেকটা মানুষ প্রত্যেকটা মানুষকে সম্মান করবে, ভালোবাসবে। তিনি আমার পরিচিত হোক, অপরিচিত হোক।
জেইউ/এসএম