ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়ম হলে ছাড় নয় : ব্যারিস্টার সালেহী

কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় জামায়াতের সুরা সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী বলেছেন, উলিপুরে ভিজিএফ কার্ড বিতরণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ভিজিএফ কার্ড বিতরণে কোনো রকম অনিয়ম হলে ছাড় দেব না।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১০টায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অতিদরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, এলাকার মানুষ এবার জানতে পারবে, কোন ওয়ার্ডে কতটি কার্ড যাচ্ছে এবং বিষয়টি গণমাধ্যমেও জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা ব্যাত্যয় হলে তা কোনোভাবেই বিবেচনা করা হবে না। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির খাদ্যশস্য যেন সঠিকভাবে প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারে উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৮৩ হাজার ৩৭০ জন উপকারভোগীর মধ্যে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হবে। কার্ডপ্রতি ১০ কেজি হারে মোট ৮৩৩.৭০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাবে ইউনিয়নের উপকারভোগীরা।
এছাড়াও উলিপুর পৌরসভার ৪ হাজার ৬২৫টি কার্ডের জন্য মোট ৪৬.২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাবে পৌরসভার উপকারভোগীরা।
যারা এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন, যেসব পরিবার চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে এবং নিয়মিত খাদ্যসংকটে ভুগছে—তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে এ ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—ভিটাবাড়ি ছাড়া অন্য কোনো জমি নেই এমন পরিবার, দিনমজুরের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবার, মহিলা শ্রমিক বা ভিক্ষাবৃত্তির আয়ে চলা পরিবার, উপার্জনক্ষম পূর্ণবয়স্ক পুরুষবিহীন অসচ্ছল পরিবার, স্কুলগামী শিশুকে উপার্জনের জন্য কাজ করতে হয় এমন পরিবার, উপার্জনশীল ব্যক্তি নেই এমন পরিবার, স্বামী পরিত্যক্তা বা তালাকপ্রাপ্ত অসচ্ছল নারীর পরিবার, অসচ্ছল ও অক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবার, ক্ষুদ্রঋণ সুবিধাবঞ্চিত পরিবার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খাদ্য ও অর্থসংকটে পড়া পরিবার।
এছাড়া যেসব পরিবারের সদস্যরা বছরের অধিকাংশ সময় দুবেলা খাবার পায় না, সেসব পরিবারকেও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ