৫৫ বছরেও দেশের মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি : সিবগাতুল্লাহ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেছেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার আজ ৫৫ বছর পূর্ণ হলো। স্বাধীনতার এত বছর পরেও বাংলাদেশের মানুষ এখনও স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি। বারবার আমাদের ওপর যে শাসকগোষ্ঠী চেপে বসেছে, তারা এই স্বাধীনতার টুঁটি চেপে ধরেছে।
বিজ্ঞাপন
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালি-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
সকাল ১০টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হওয়া বিশাল মিছিলটি পল্টন, প্রেসক্লাব ও মৎস্য ভবন মোড় হয়ে শাহবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহীসহ কার্যকরী পরিষদ সদস্যবৃন্দ।
বিজ্ঞাপন
এছাড়াও মিছিলে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিপুলসংখ্যক জনশক্তি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিবগাতুল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ ‘জুলাই সনদ’-এর ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকার সেই গণরায়কে উপেক্ষা করছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২০টি অধ্যাদেশ পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও আমরা জানতে পেরেছি। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই— বাংলাদেশের গণমানুষের ম্যান্ডেটকে এভাবে উপেক্ষা করা যায় না।
তিনি বলেন, জনগণের ইচ্ছা সংবিধানের চেয়ে বড়। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয়। তাই জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো বাতিলের চক্রান্ত চলছে, যা শহীদদের আত্মত্যাগের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও নিজের অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী অতীতে সংস্কারের পক্ষে যে অবস্থান নিয়েছিলেন, দুঃখজনক হলেও তার দল সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থা নিয়েছে, তিনি সেই অবস্থানে ফিরে এসে জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবেন।
শিক্ষা খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা একটি উন্নত, মানবিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। তরুণ প্রজন্ম এখনো তাদের প্রাপ্য শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত।
দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, মানুষের নিরাপত্তা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি বেড়েই চলছে—চাঁদা না দিলে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রসমাজকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। র্যালিটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। পরিশেষে, মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
জেইউ/এমএন