বিজ্ঞাপন

বিএনপিকে এটিএম আজহার

সংসদেই ফয়সালা করুন, রাজপথের ফল কখনো ভালো হয়নি

অ+
অ-
সংসদেই ফয়সালা করুন, রাজপথের ফল কখনো ভালো হয়নি

অতীত ভুলে গিয়ে সরকারি দল বিএনপি ‘বোকার স্বর্গে’ বাস করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের রাজপথে অবস্থান নিতে বাধ্য করবেন না। সংসদের বিষয় সংসদেই সমাধানের চেষ্টা করুন। এটি যদি রাজপথে আনার চেষ্টা করেন তাহলে মনে রাখুন জনগণের অংশগ্রহণে রাজপথের আন্দোলন কখনো বিফলে যায়নি। 

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক ‘সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে’ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, “আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তা জুলাই বিপ্লবের কারণে। আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অধিকাংশ সংসদ সদস্যও হয়েছেন জুলাই বিপ্লবের কারণে। যে জুলাই বিপ্লব আমাদের নতুন জীবন দান করল, তাকে অস্বীকার করা মানে এই নতুন জীবনকেই অস্বীকার করা।”

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব একটি দলকে ক্ষমতাচ্যুত করে আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না। এই বিপ্লব ছিল পুরোনো ব্যবস্থাকে ছুড়ে ফেলে নতুন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য। আজ গণভোটকে অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে সরকার আবার আওয়ামী লীগের সেই পরিবারবাদী কায়দায় এক ব্যক্তির কাছে সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়।

নিজের এলাকা রংপুরের উদাহরণ টেনে এই সংসদ সদস্য বলেন, “যে রংপুরে জুলাই বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল, আমি সেই রংপুরের সন্তান। আবু সাঈদ রক্ত দিয়েছিল কি জন্য? সে ক্ষমতার আশায় রক্ত দেয়নি, পরিবর্তন চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই পরিবর্তনের কথা ভুলে গিয়েছে।”

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জোর করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে জনগণের ওপর চেপে থাকতে পারবেন না। আমাদের রাজপথে আসতে বাধ্য করবেন না। সময় থাকতে গণভোটের রায় মেনে নিন, জনগণ আপনাদের ভালোবাসবে। অন্যথায় আওয়ামী লীগ যেভাবে পালিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনাদেরও তেমনই অবস্থা হতে পারে।”

বিজ্ঞাপন

দেশের জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণ জ্বালানি সংকটে ভুগছে, অথচ সংসদে মন্ত্রী বলছেন সংকট নেই। সংকট না থাকলে সরবরাহ কমালেন কেন? কেন স্কুল-কলেজ বন্ধ করলেন? দাম বাড়ালে জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়বে। এসব কার্ড দেওয়ার রাজনীতি বাদ দিয়ে সত্য তুলে ধরুন।”

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং এনসিপির সদস্যসচিব আকতার হোসেন এমপি প্রমুখ।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে কাকরাইলে গিয়ে শেষ হয়।

জেইউ/বিআরইউ