বিজ্ঞাপন

আমরা চাই না বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম হোক : ডা. শফিকুর রহমান

অ+
অ-
আমরা চাই না বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম হোক : ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েম হোক, তা জামায়াতে ইসলামী চায় না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সংবিধানের যেসব আইনের কারণে দীর্ঘ সময় জনগণ অধিকারহারা ছিল, সেই ধারাগুলো পরিবর্তনের পক্ষে দেশের ৬৮.১ শতাংশ মানুষ রায় দিলেও সরকারি দল এখন সেই গণরায় অস্বীকার করছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পীরেরবাগবাসীর পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ঘরে ও বাইরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। আমরা বিরোধী দলে যারা আছি, তাদের কাজ হলো ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়া এবং জনগণের অধিকারের পাহারাদারি করা। সরকার যদি জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করে, তবে আমরা ইতিবাচকভাবে তা সংশোধন করতে সহযোগিতা করব। কিন্তু সরকার যদি সংশোধন না হয়ে মানুষের অধিকার কেড়ে নিতেই থাকে, তবে আমরা প্রতিবাদ ও প্রয়োজনে প্রতিরোধ করব।”

বিজ্ঞাপন

জাতীয় জীবনের বিদ্যমান সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে একটি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৮.১ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার তা মানছে না। ডা. শফিকুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, “সংসদে আমরা এ বিষয়ে আলোচনার দাবি তুলেছিলাম। স্পিকারের অনুমতিতে দুই ঘণ্টা আলোচনাও হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদের প্রস্তাবিত এবং আমাদের সমর্থিত এই গণভোটের রায় গ্রহণ করা হবে। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিএনপি তাদের অতীতের সব ওয়াদা ও ৩১ দফার সংস্কার প্রস্তাব ভুলে গেছে।”

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার গাড়ির মিছিল দেখা যাচ্ছে, চাকা ঘুরছে না। অথচ সংসদে সত্য কথা না বলে এমনভাবে বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে যেন বাংলাদেশ তেলের ওপর ভাসছে। তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশ ভাসছে না, কিছু লোক যারা সরকারকে ‘তেল’ মারে, তারাই সংকট দেখতে দিচ্ছে না। অতীতে এই তেলে পিছলে অনেকের কোমর ভেঙেছে।”

জ্বালানি সংকটের অজুহাতে স্কুল বন্ধ করে ডিজিটাল ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। করোনার সময় একবার এই মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, আবারও তা ভাঙার চেষ্টা মানা হবে না। বাস্তবতা যা-ই হোক, সবার আগে শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাত না দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

মিরপুর পূর্ব থানা আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সদস্যসচিব শাহ আলম তুহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতারা।

জেইউ/বিআরইউ